শিশু ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মোমবাতি মিছিলে মমতা

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রী
পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১১ বছরের এক মুসলিম শিশু গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে যখন ক্ষোভ তুঙ্গে, তখন ন্যায়বিচারের দাবিতে কলকাতার রাজপথে নামলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মোমবাতি মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগানে মুখর এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রী, তাদের মধ্যে ছিলেন দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন।
মিছিলকে ঘিরে গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশবাহিনী, র্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তৃণমূলের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয় এবং ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল আটকে দেওয়া হয়। এর জেরে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হলে কালীঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার সকালে বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যায় তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন সাবেক বিধানসভা অধ্যক্ষ ও স্থানীয় বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস সদস্য দোলা সেন এবং প্রতিমা মণ্ডল। বারুইপুরে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক করেন তরা।
তৃণমূলের অভিযোগ, রবিবার রাত থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ব্যারিকেড বসিয়ে তাকে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল, যাতে তিনি বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন।
অন্যদিকে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তৃণমূল এর বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেছেন, ‘অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে পুলিশের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। পুলিশের ব্যর্থতার কারণেই মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ ও প্রতিবাদ আছড়ে পড়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসতে বাধা দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি মূলত সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করার একটি অপচেষ্টা।’
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকপক্ষও কড়া অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, ‘এটি এক জঘন্যতম অপরাধ। আমি ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পরিবার যা দাবি করছে, সরকার তার সবকিছুই পূরণ করছে। তারা নিশ্চয়ই ন্যায়বিচার পাবেন এবং অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট সুনিশ্চিত করা হবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও পরিবারটি বর্তমান সরকারের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, শুধু এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেই নয়, ঘটনার পর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, গণপিটুনি, রেল অবরোধ বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে যারা অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




