শেরশাহবাদি মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ বলা নিয়ে বিহারে বিতর্ক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভারতে বিহারের কিষাণগঞ্জে শেরশাহবাদি মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে জেডি-ইউ বিধায়ক গোপাল কুমার আগরওয়ালের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠাকুরগঞ্জের এই বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে চিঠি লিখে বুথ লেভেল অফিসার পদ থেকে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের কয়েকজন শিক্ষককে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। সেই চিঠিতেই তিনি শেরশাহবাদি মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে উঠেছে অভিযোগ।
আর বিধায়কের এই মন্তব্য সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শেরশাহবাদি সম্প্রদায়ের মধ্যে। অল বিহার শেরশাহবাদি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক তৌকির আলম, কংগ্রেস বিধায়ক কামরুল হোদাসহ একাধিক নেতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়কে নিশানা করে ঘৃণার রাজনীতি করা হচ্ছে।
এছাড়াও তৌকির আলম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তার কথায়, ‘যে সম্প্রদায় সংবিধান মেনে চলে, তাদের বাংলাদেশি বলার সাহস কীভাবে হয়? শেরশাহবাদি মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে শুধুমাত্র তারা বাংলা ভাষায় কথা বলেন বলে।’ এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়েরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে কংগ্রেস বিধায়ক কামরুল হোদাও জেডি-ইউ নেতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘২০২৫ সালের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হয়েছে যে কিষাণগঞ্জে কোনো বাংলাদেশি অভিবাসী নেই। তার প্রশ্ন, তাহলে কি সরকারি তথ্যকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে?’
কামরুল হোদা আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় শেরশাহবাদি ও সুরজাপুরি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কিষাণগঞ্জের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা সফল হবে না।




