হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বিগ্ন কোয়াড সদস্যরা

সংগৃহীত ছবি
নয়াদিল্লিতে অবাধ বাণিজ্যের পক্ষে প্রশ্ন করলেন কোয়াড বৈঠকে যোগ দিতে আসা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সচিবরা। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পদক্ষেপসহ সারা বিশ্বে বাণিজ্যিক চলাচলের প্রতি যেকোনো ধরনের বিধি-নিষেধের সমালোচনা করা হয়।
কোয়াড বৈঠকের আয়োজন করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এতে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকার পররাষ্ট্রসচিব মারকো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেন্নি ওং এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিমিৎসু মোয়েগি।
মসৃণভাবে কার্যকর, স্থায়ী, স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং স্বাভাবিক সরবরাহ সুনিশ্চিত করার প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেন তারা।
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ সারা বিশ্বে যাতে শক্তি সম্পদের জোগান নিশ্চিত থাকে সেই লক্ষ্যে জ্বালানি ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে স্বচ্ছতা এবং খোলা বাজার বজায় রাখার আহ্বান করেন কোয়াড সদস্যরা।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, কোয়াডভুক্ত দেশগুলো কঠোরভাবে বিশ্বাস করে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করে তুলতে হবে।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের আলোচনার মধ্যে ছিল শক্তি সম্পদ এবং সারের পাশাপাশি বিরল খনিজ এবং সম্পদের সহজলভ্যতা। অন্যদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।’
তার কথায়, ‘আগামীদিনে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ, শক্তি সম্পদের বাণিজ্য বা জলপথের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ইন্দো-মহাসাগরীয় অঞ্চল।’
সরকারিভাবে জারি করা যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান কোয়াড সদস্যরা ইন্দো-মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি সম্পদের উদ্যোগ হিসেবে প্রযুক্তি, ম্যানেজমেন্ট, নীতি, আন্তর্জাতিক বাজার বিচার বিশ্লেষণ, জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রগুলোতে অভিন্নতা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করে কাজ করবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি দেশের শক্তিক্ষেত্রের ব্যতিক্রমী সম্পদ চিহ্নিত করাসহ তাদের নিজেদের পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়ে সেগুলোকে ব্যবহার করার লক্ষ্য থাকবে।
এতে বলা হয়েছে, আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস এবং পেট্রোপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সারসহ কয়েকটি সামগ্রীর পরিস্থিতি নিম্নগামী দেখতে পাচ্ছি।
এদিকে, জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, কোয়াড সদস্যদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে খনন এবং বিরল খনিজের প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তি উপযুক্ত সময়ে হয়েছে এবং তা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।








