জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মমতার মিছিল আটকে দিল পুুলিশ
- ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে তৃণমূলের প্রতিবাদ
- নামানো হল কেন্দ্রীয় বাহিনী

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে তৃণমূল- সহ বিরোধী দলগুলি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরনেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ডাকা মিছিল রাজাবাজারেই আটকে দিল পুলিশ। মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের। কিন্তু নির্ধারিত পথে এগোতে পারেননি তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। রাজাবাজার মোড়ে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি সেখানে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দুপুর ২টা নাগাদ কুণাল ঘোষের নেতৃত্বে মিছিল পৌঁছয় রাজাবাজারে। ম্যাটাডোরে দাঁড়িয়ে সেখানেই বক্তব্য রাখতে শুরু করেন কুণাল, দোলা সেন ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা।
পুলিশের বক্তব্য, মিছিলের বিষয়ে আগে থেকে কোনও সরকারি আবেদন বা আনুষ্ঠানিক তথ্য তাদের কাছে পৌঁছয়নি। ফলে কত মানুষ অংশ নেবেন, কোথা থেকে মিছিল শুরু হবে এবং কোথায় শেষ হবে, তা জানা ছিল না বলে দাবি কলকাতার পুলিশ কমিশনারের।
অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, মিছিল নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই মিছিল শুরুর জায়গাতেই তা থামিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, "দুর্গাপুজোয় বিশৃঙ্খলা করতে দেব না। প্রয়োজনে সেন্ট্রাল ফোর্স নামব। এক পা এগোতে দেব না।" মিছিল আটকে দেওয়ার প্রতিবাদে কুণাল ঘোষ বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চোর বলেছি। আপনাদের গায়ে লাগছে কেন?” তাঁর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই রাজ্য সরকার হুমকি দিয়েছে এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না বলে জানান তিনি। তার দাবি, আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।
দোলা সেনের অভিযোগ, গত পাঁচ মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলকে কোনও মিছিল বা সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং প্রতিবারই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। তার আশঙ্কা, পুজোর সময়ে ছাত্র-যুবদের গ্রেফতার করে আন্দোলন দমন করা হতে পারে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে তৃণমূল- সহ বিরোধী দলগুলি। সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের নেতারা। সেই কর্মসূচির পরই কলকাতায় এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বিজেপির মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মমতার মিছিল নিয়ে কটাক্ষ করেন। তার দাবি, মমতার সঙ্গে দলের খুব কম লোকই রয়েছেন। মুসলিম ভোটারদের সমর্থনও তিনি হারাবেন বলে মন্তব্য করেন সুকান্ত।



