নরেন্দ্র মোদি
অস্ট্রেলিয়া-ভারত সম্পর্ক নানা খাতে সহযোগিতার বড় সুযোগ এনে দিয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে সিইও ফোরাম এবং ইকোনমিক রোডম্যাপ বিজনেস রিসেপশনের আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করমর্দন করছেন। ছবি : রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক ও নবায়নযোগ্য শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সবুজ হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সহযোগিতার জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে মেলবোর্নে পৌঁছানোর পর তিনি অস্ট্রেলিয়া-ভারত অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বিষয়ক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।
মোদি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি, পুঁজি ও সম্পদ ভারতের জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে। তিনি স্বল্প-কার্বন অ্যালুমিনিয়াম প্রকল্পে সম্ভাব্য সহযোগিতার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন উভয় দেশই অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর রাখছে এবং অস্ট্রেলিয়া তার শীর্ষ অংশীদার চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে।
এ প্রসঙ্গে মোদি বলেছেন, ‘এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের রয়েছে। ভারত আপনার তহবিলগুলোর জন্য একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগ দেবে।’
একই সঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে ভারতের সড়ক, বন্দর, রেল ও নগর পরিকাঠামো প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম পেনশন তহবিল অস্ট্রেলিয়ানসুপার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে আরও ৫০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (৩৪.৭ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করবে।
অস্ট্রেলিয়ান ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ সংবাদপত্র বুধবার জানিয়েছে, ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানি-সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। যদিও ২০১৪ সালে উভয় দেশ একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, পারমাণবিক জ্বালানি যেন শুধু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, যেমন— শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করার উদ্বেগের কারণে ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল।
ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে এক ‘জীবন্ত সেতু’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, মোদির দূরদৃষ্টি ভারতের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।
আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে উভয় নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ রয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স




