‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ তকমায় নিষেধাজ্ঞা, ভারতের বিরুদ্ধে আদালতে রেড বুল

সংগৃহীত ছবি
ভারতে পানীয়ের গায়ে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ লেখা বন্ধের নির্দেশ ঘিরে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে অস্ট্রিয়ার পানীয় সংস্থা রেড বুল। রয়টার্সের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছে। রেড বুলের অভিযোগ, কোনো আগাম নোটিশ বা বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়েই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতে তাদের বর্তমান ব্যবসা এবং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রেড বুল ২৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলা করে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অমিত মহাজনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, রেড বুলকে আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংস্থাটিকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না। খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে আদালত। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর রাখা হয়েছে। সোমবার আদালত অবশ্য রেড বুলকে কোনো অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেয়নি। রেড বুলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ৩০ জুনের নির্দেশ। ওই নির্দেশে সংস্থাটিকে তাদের ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের ক্ষেত্রে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ পরিচয় ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়। পরে ১৭ জুলাই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খাদ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তাদেরও নিয়ম না মানা পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। রেড বুলের দাবি, এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের পণ্য জব্দও করা হয়েছে।
ভারতের নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য, ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নামে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট ভারতীয় খাদ্যমান নেই। এই ধরনের পানীয় নিয়ে ‘শরীর ও মন চাঙা করে’, ‘মনোযোগ বাড়ায়’ বা ‘দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে’- এর মতো দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে। জুলাইয়ে পেপসিকোর স্টিং ও অ্যাড্রেনালিন রাশ, রেড বুল, রিলায়েন্সের ক্যাম্পা এনার্জি, হেল এনার্জি এবং কোকা- কোলা সমর্থিত মনস্টারসহ কয়েকটি সংস্থাকে এ নিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাগুলোকে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বা একই ধরনের পরিচয় সরানোর জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তে পানীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ পরিচয়কে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ড তৈরি হয়েছে। হঠাৎ সেই পরিচয় সরিয়ে দিলে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, ব্র্যান্ডের ক্ষতি হতে পারে এবং বিক্রিতেও প্রভাব পড়তে পারে। সংস্থাগুলো এক বছরের সময় চেয়েছিল কিন্তু খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ৯০ দিনের সময়সীমা বজায় রাখে।
রেড বুল এখন আদালতে আরও একটি বিষয় তুলেছে। সংস্থাটির দাবি, ২০২৪ সালে খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের একটি নির্দেশনায় নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের ক্ষেত্রে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ শব্দটি ব্যবহারের অনুমতি ছিল। বছরের পর বছর তাদের পণ্যের লাইসেন্স, আমদানি ছাড়পত্র ও অন্যান্য অনুমোদনও একই পরিচয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই কোনো আইন, বিধি বা বৈজ্ঞানিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন না এনে হঠাৎ এই অবস্থান বদলানো কেন হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রেড বুল। এর মধ্যে ভারতের এনার্জি ড্রিঙ্কের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইউরোমনিটরের হিসাবে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই বাজারের খুচরা বিক্রি ১৬০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিক্রির পরিমাণও দ্রুত বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ পরিচয় নিয়ে নিয়ন্ত্রক ও সংস্থাগুলোর বিরোধের প্রভাব শুধু একটি পণ্যের গায়ে লেখা শব্দেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েই এখন নজর শিল্পমহলের।



