ইভিএম নিয়ে অভিযোগ মমতার, নিজেই বসলেন পাহারায়

বৃহস্পতিবার রাতে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হলেও উত্তেজনার পারদ নামেনি রাজ্যের রাজনীতিতে। বরং গণনার আগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে স্ট্রংরুম এবং ইভিএমের নিরাপত্তা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ইভিএম নিয়ে অনিয়ম হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘স্ট্রং রুমে ইভিএম রাখা হয়েছে। আমরা সিসিটিভিতে দেখেছি, অনেক জায়গায় কারচুপি হচ্ছে। তাই আমারও সেখানে যাওয়া উচিত মনে হয়েছে।’
এই পরিস্থিতিতে রাতেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে রাখা হয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রংরুম। রাত প্রায় আটটা সেখানে পৌঁছান মমতা এবং দীর্ঘ সময় ভেতরে কাটান।
রাত প্রায় ১২টায় সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সংবাদিকদের বলেছেন, অভিযোগকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইভিএম ম্যানিপুলেশনের অভিযোগ তার কাছে পৌঁছেছিল। সেই খবর পেয়েই তিনি সরাসরি স্ট্রংরুমে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
তিনি বলেছেন, ‘প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে স্ট্রং রুমে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।’ তবে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রার্থী ও এজেন্টদের সেখানে যাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে মমতার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তার বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, ‘কোনো নিয়ম বহির্ভূত কাজ’ করতে পারেননি মমতা।
শুভেন্দু বলেছেন, ‘উনি যতক্ষণ স্ট্রংরুমে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে তাকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন। যাতে উনি কোনো অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন।’
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৪ মে রাজ্যটির নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে।




