চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা
অবশেষে সিডিএ চেয়ারম্যানের দুঃখ প্রকাশ

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতায় মানুষের ভোগান্তির জন্য অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসন সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আমরা বলি না যে জনগণের যে কষ্টটা হয়েছে, আমরা সেটা বুঝি না। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এই কষ্টের জন্য।’
তিনি জানান, চলমান খাল সংস্কার কাজের কারণে সাময়িকভাবে এ দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নুরুল করিম জানালেন, খাল সংস্কারের সময় পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অস্থায়ী বাঁধ (ব্যারিকেড) দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে সেই বাঁধ পানি নিষ্কাশনে বাধা তৈরি করে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে যেখানে যেখানে ব্লকেজ আছে, সেনাবাহিনী সেগুলো সরিয়ে নেবে। এরপর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি’— বললেন তিনি।
তার মতে, ‘মানুষ অপারেশন করার সময় যেমন কিছু রক্তপাত হয়, তেমনি বড় ধরনের উন্নয়ন কাজের সময় কিছু কষ্ট হয়। এই কষ্টটা কাজের জন্যই হয়েছে।’ তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গতবারের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি প্রায় ৫০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে দাবি করে সিডিএ চেয়ারম্যান জানালেন, এবার আরও কিছু উন্নতি হবে। আগামী বছর আরও ভালো অবস্থা দেখতে পাবেন। শতভাগ না হলেও সহনীয় অবস্থায় নিয়ে আসতে পারব।
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন বাধার কথাও তুলে ধরে নুরুল করিম বলেছেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বড় বড় স্থাপনা অপসারণ, মামলা এবং নানা জটিলতা কাটিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে। চাইলেই খালি জায়গায় কাজ করার মতো নয়। এখানে বহু পুরোনো ভবন, বাজার, স্থাপনা রয়েছে। এসব ভেঙে কাজ করতে গিয়ে সময় লাগছে।’
সভায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘অনেক ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছে। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ একই সঙ্গে প্রকল্পের সব সমালোচনার দায় সিডিএ গ্রহণ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের কাজ চলছে। মঙ্গলবার ও বুধবারের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। সিটি মেয়রও নগরবাসীর কষ্টের জন্য ক্ষমা চান। কিন্তু সিডিএ চেয়ারম্যান মাঠে না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েন। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে এসে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও তাকে ভর্ৎসনা করেন।



