৭০ বিঘা জমি দুই লাখে ইজারা, ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রায় ৭০ বিঘা তিন ফসলি জমি নামমাত্র মূল্যে গোপনে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। উন্মুক্ত নিলামের তোয়াক্কা না করে মাত্র ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকায় এই জমি ইজারা দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেখানে ওই এলাকায় এক বিঘা জমির বার্ষিক ইজারা মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, সেখানে পুলিশ প্রতি বিঘা জমি গড়ে মাত্র ২ হাজার ৭৪২ টাকায় লিজ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাটিকাটা ইউনিয়নের কৃষ্ণবাটি মাঠের এই জমিগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। জমির মালিকরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হওয়ায় আদালত গোদাগাড়ী থানা পুলিশকে রিসিভার বা জিম্মাদার হিসেবে দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে উন্মুক্ত নিলাম ডেকে জমি ইজারা দেওয়ার কথা। লিজের সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার বিধান থাকলেও চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে গোপনেই অলিউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে জমিগুলো হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এক বিঘা জমিতে বছরে দুই মৌসুমে প্রায় ৪৫ মণ ধান উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া শীতকালীন সবজি চাষ করলে বিঘাপ্রতি লক্ষাধিক টাকার ফসল পাওয়া সম্ভব। এমন উর্বর জমি মাত্র ১৫৭ মণ ধানের দাম ধরে ইজারা দেওয়াকে ‘পানির দামে লুটপাট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা। স্থানীয় যুবদলকর্মী হাসানুজ্জামান উল্লেখ করেন, উন্মুক্ত নিলাম হলে এই জমি থেকে অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হতে পারত। অনেক ভূমিহীন কৃষক জমিটি বর্গা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের কাছে আবেদন করলেও তাদের নিলামে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
ইজারাপ্রাপ্ত অলিউল্লাহ নিজেকে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দাবি করে জানান, তিনি সর্বোচ্চ দর দিয়েই জমি নিয়েছেন। তবে নিলামের সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থান সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিলাম থানার ভেতরেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি জমিগুলো স্থানীয় কৃষকদের কাছে ‘ঠিকা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান, যা থেকে বড় অঙ্কের মধ্যস্বত্বভোগী মুনাফা অর্জনের আশঙ্কা করছেন প্রকৃত চাষিরা।
অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বর্তমান ওসি (তদন্ত) মোমিনুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। বর্তমান ওসি আতিকুর রহমানও নিলামের সঠিক তারিখ জানাতে পারেননি, তবে তিনি দাবি করেন যে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে করা এই ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত কৃষকরা। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়ায় সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে, তেমনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মালিকানাধীন এই জমিগুলো নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।



