হালদায় ডিমের দেখা, বড় আহরণের আশায় জেলেরা

সংগৃহীত ছবি
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মাছের স্বল্প পরিমাণ ডিম মিলেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে নদীর পশ্চিম গুজরা, নাপিতের ঘাট ও নয়াহাটসহ কয়েকটি স্থানে এই ডিম পাওয়া যায়।
মৎস্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা এটিকে নমুনা ডিম হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং রাতের জোয়ারে পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়ার আশা করছেন।
এ অবস্থায় ডিম সংগ্রহে প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৩৫০ সংগ্রহকারী। তারা বালতি, গামলা, ডিঙি নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। কাগজে-কলমে সংখ্যা ৩৫০ হলেও বাস্তবে সংগ্রহকারীর সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে।
স্বল্প পরিমাণ ডিম পাওয়া গেলে তাকে নমুনা ডিম বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল সময়ে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। তিনি আশা করেন, রাতের মধ্যে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম আশা প্রকাশ করে আগামীর সময়কে বলছিলেন, রাতের জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে। সংগ্রহকারীরা প্রস্তুত রয়েছে এবং এ বছর ডিমের পরিমাণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরীয়া উল্লেখ করেন, স্বল্প পরিমাণ ডিম পাওয়া গেলে তাকে নমুনা ডিম বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল সময়ে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। তিনি আশা করেন, রাতের মধ্যে ডিম ছাড়ার পরিমাণ বাড়বে।
গত বছর হালদা নদী থেকে প্রায় ১৪ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়, যা থেকে ২৯৮ কেজি রেনু উৎপন্ন হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেনুর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬ কেজি।
খাগড়াছড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসা হালদা নদীর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি রাবার ড্যাম থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তামাক চাষ, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষণও বাড়ছে। নদী ব্যবস্থাপনায় যথাযথ উদ্যোগের অভাবের অভিযোগও রয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও হালদার মা মাছ টিকে আছে এবং প্রতিবছর প্রজনন কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।



