বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট ৬০ হাজার কেজি চা পাতা
- ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল বিদ্যুৎহীন ছিল কমলগঞ্জ
- উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রভাব পড়ছে নিলাম বাজারে

ছবি: আগামীর সময়
কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড়ে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শিকার মৌলভীবাজার। মৌসুমের শুরুতেই লোকসানের মুখে কমলগঞ্জের ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মালিকানাধীন পাঁচটি চা বাগান। এক মাসে লোকসানের পাহাড় জমেছে এসব বাগানে। লোডশেডিং আর টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কেজি চা পাতা, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।
এনটিসির সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো উপজেলা। ফলে পাত্রখোলা, মাধবপুর, মদনমোহনপুর, কুরমা ও চাম্পারায় চা বাগানের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো অচল হয়ে পড়ে পুরোপুরি। কারখানা সচল না থাকায় শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে সংগ্রহ করা কাঁচা পাতা পচে নষ্ট হয়েছে মেঝেতেই।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু পাঁচ দিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট হয়েছে ৬০ হাজার কেজি পাতা, যার আর্থিক মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এর আগে এপ্রিলের শুরুর দিকে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে আরও প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি গুনতে হয়েছে কোম্পানিকে।
মাধবপুর চা বাগানের ফ্যাক্টরি কেরানি লক্ষ্মী নারায়ণ কৈরী বলছেন, ‘টানা পাঁচ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। শ্রমিকদের সংগৃহীত কাঁচা পাতাগুলো চোখের সামনে নষ্ট হয়ে গেল, অথচ কিছুই করার ছিল না। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল ক্ষতি।’
এদিকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে চা নিলাম বাজারে। বছরের প্রথম নিলামে কোম্পানিটি প্রায় দেড় কোটি টাকার চা বিক্রি করলেও মে মাসের দ্বিতীয় নিলামের চিত্র ভয়াবহ। যেখানে হাজার হাজার কেজি চা পাতা থাকার কথা, সেখানে দ্বিতীয় নিলামের জন্য মাত্র ১২-১৩ হাজার কেজি চা পাতা পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহের ভাষ্য, ‘টানা পাঁচ দিন বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায় ৩৫ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা পচে নষ্ট হয়েছে। পাতাগুলো থেকে তৈরি করা যেত প্রায় আট হাজার কেজি চা পাতা। এ পাতাগুলো আর প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব নয়। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।’
তিনি জানান, এ বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ কেজি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তা অর্জন করা সম্ভব হবে।
পাত্রখোলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইউসুফ খাঁন বললেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাগানে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে। কারখানায় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা মাচায় পড়ে আছে, যা নষ্ট হওয়ার পথে।’
এনটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে ‘একটি বড় ধাক্কা’ হিসেবে দেখছেন। ‘টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আমাদের পাঁচটি চা বাগানে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। চায়ের ভরা মৌসুমে এমন উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’




