রাজনীতিতে নতুন মেরূকরণ
নিজামীপুত্র নাদিমুর নাম লেখাচ্ছেন এনসিপিতে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। জুলাই-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের উদ্যোগে গড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হয়ে উঠেছে নতুন এক গন্তব্য। দলটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুক্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং নানা সামাজিক-রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরা। শুধু ব্যক্তি নয়; একাধিক দল ও সংগঠনও সরাসরি এনসিপিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জোর আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। দলটির এই নবযাত্রাকে নেতাকর্মীরা আখ্যা দিয়েছেন ‘এনসিপি বসন্ত’ নামে।
সেই বসন্তের পালে নতুন হাওয়া লাগিয়ে এবার এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান। তিনি তুরস্কের নিদে ওমের হালিসদেমির বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে জামায়াত সম্পৃক্ততা থাকলেও ড. নাদিমুর প্রগতিশীল ও সংস্কারপন্থি চিন্তার অধিকারী হিসেবে পরিচিত। জামায়াতের রাজনৈতিক ‘পলিসি’ নিয়ে বিভিন্ন সময় দ্বিমত প্রকাশ, এমনকি দলটির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখাতে যাচ্ছেন এনসিপির খাতায়। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এনসিপির দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’র প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন নাদিমুর।
নাদিমুর রহমানের যোগদানের বিষয়টি আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেছেন এনসিপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা। তারা জানালেন, শিগগিরই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে দলে যুক্ত করা হবে।
এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানালেন, নাদিমুর রহমান নিজে থেকেই এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ‘আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন।’
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিজামীপুত্র নাদিমুর রহমানও। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘এনসিপি তরুণদের শক্তি। তাদের অনেক কাজ আমাকে আকৃষ্ট করেছে। এটি একটি সম্ভাবনাময় দল। তাদের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আমি এখন দেশের বাইরে। এখান থেকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছি। দেশে একটি যোগদান অনুষ্ঠানের কথাও রয়েছে।’
এনসিপিতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে নানা মতের নেতাকর্মীর যোগদানের ধারা শুরু হয় গত ১৯ এপ্রিল। সেদিন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন— এই তিন দল, প্ল্যাটফর্ম ও সংগঠনের ৪৫ নেতাকর্মী দলটিতে যোগ দেন। আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত এবং মুখপাত্র শাহরীন ইরা সেদিন যোগ দেন এনসিপিতে। তারা ছিলেন আপ বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোক্তাদের অন্যতম। জুনায়েদ ও রাফে দুজনই জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি।
এরপর গত ২৪ এপ্রিল বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন এনসিপিতে। এ ছাড়া অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনিও যুক্ত হন এনসিপিতে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইনও যোগ দিচ্ছেন এ দলে।
এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত অন্তত চার হাজার ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও অনেক নেতার সঙ্গে তাদের দলে যোগদানের বিষয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, এনসিপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায়ও আলোচনায় রয়েছে এবি পার্টি।



