মজুরি চড়া, তার ওপর বৃষ্টি, মাঠেই নষ্ট হচ্ছে সোনালি ধান

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের ভালুকায় গত চার দিন ধরে থেমে থেমে চলা ভারী বর্ষণ এবং তীব্র শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। খেতে সোনালি ধান পেকে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে তা ঘরে তোলা যাচ্ছে না। অল্পসংখ্যক স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরি হাজার টাকার বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভালুকায় ১৮ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ৪২৭ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নিচু জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি মণ ধান ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে এখন কেবল পুঁজি বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের ভান্ডাব গ্রামের কৃষক আব্দুল কদ্দুস আক্ষেপ করে জানান, এক একর জমির ধান পেকে থাকলেও কাটার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতি বছর শ্রমিক এলেও এবার তাদের দেখা নেই। যে কয়েকজন আসছেন, তারা আকাশছোঁয়া মজুরি দাবি করছেন।
আতাউর রহমান নামের আরেক কৃষক জানান, ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে মাঠের অর্ধেকের বেশি ধান এখনো কেটে উঠতে পারেননি। অন্যদিকে নিচু জমির চাষি আব্দুল হক বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই তার জমি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রোদ না থাকায় কেটে রাখা ধান শুকাতেও পারছেন না তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে মন্তব্য করেন, কৃষি উপকরণের পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বোরো চাষ এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার জন্য ১০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মধ্যে ৫টি সচল থাকলেও অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধ জমিতে সেগুলো চালানো যাচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অধিকাংশ ধান কাটা শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষায় মাঠের ফসল কতটুকু রক্ষা পাবে, তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না কৃষকদের।



