মামুনুলের কান্নাভেজা বিদায়ের গল্প

সংগৃহীত ছবি
ফুটবল থেকে অবসরের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মামুনুল ইসলাম। এটা কঠিন এক সময়, যার পুরো জীবনটাই আবর্তিত হয়েছে ওই চর্মগোলক ঘিরে, তাকেই যে আজ বিদায় বলতে হবে। তিনি বৃহস্পতিবার এক কান্নাভেজা বিদায়ের গল্প বলতে বসেছিলেন ফরটিস ক্লাব হাউজে।
কাল (শুক্রবার) রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি শেষবারের মতো মাঠে নামবেন ফরটিসের জার্সি গায়ে। এর পর থেকেই তার নামের পাশে লেখা হবে সাবেক তারকা। বিদায়বেলায় সামনে আসে গৌরবের অতীত, অম্ল-মধুর ঘটনা। সবকিছুরই জবাব দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
ক্যারিয়ারের শেষ বিকালে ফরটিস এফসিতে নাম লিখিয়েছিলেন চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার। তার আগে আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, শেখ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধা এফসিসহ দেশের সব ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবে খেলেছেন এই মিডফিল্ডার। আরমান মিয়ার পর সৃষ্টিশীল ফুটবলার বললে তার নামই আসে। এই খ্যাতি দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতেও; তাই ইন্ডিয়ান সুপার লিগেও এক মৌসুম খেলেছেন অ্যাতলেটিকো দি কলকাতার হয়ে। নিজে ম্যাচ টাইম না পেলেও শিরোপা জেতে তার দল।
জাতীয় দলের জার্সিতে তার অভিষেক হয় ২০০৮ সালে আর ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে তিনি শেষবারের মতো খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে। কিন্তু লাল-সবুজ জার্সিতে তার বড় অর্জন দেশের মাঠে ২০১০ সালে সাফ গেমস ফুটবলে সোনা জয়। তবে ক্লাব দলের হয়ে সব ট্রফিই জেতা হয়ে গেছে তার।
কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষবেলায় এসেও তাকে পোড়ায় একটা অতৃপ্তি— ‘কখনো জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জিততে পারলাম না।‘ কিন্তু ক্লাব ফুটবলে দুই দশকের ক্যারিয়ারে হৃদয় জিতেছেন ফুটবলানুরাগীদের। এটাই মামুনুলের ফুটবল জীবনের সার্থকতা।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত জামাল ভূঁইয়া বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন তাকে ‘দেশি ফুটবলাররা সহযোগিতা করেননি’ বলে। মামুনুল এই অভিযোগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন এভাবে— ‘আমরা দেশি ফুটবলাররা সহযোগিতা না করলে জামাল ভূঁইয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারত না। তিনি এত বছর পর এই কথা বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, আমি জানি না।’
প্রিয়-অপ্রিয় সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে এই মিডফিল্ডার বলেছেন নিজের ভবিষ্যতের কথা, ‘ফুটবল ছেড়ে থাকা আমার জন্য কষ্টের হবে। কোচিং করানোর সার্টিফিকেট আমার আছে। তবে কী করব, এখনো ঠিক করিনি।’
বাকি জীবন যে পথেই চলুক, মামুনুল ইসলাম স্মরণীয় বরণীয় হবেন তার ফুটবল জীবনের জন্য।



