নিঃসঙ্গ হ্যারিসন ফোর্ড যেভাবে হলিউড মাতালেন

হ্যারিসন ফোর্ড
রুপালি পর্দায় ইন্ডিয়ানা জোন্সের বেশে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছেন হ্যারিসন ফোর্ড। অথচ এক সময় নিজের ঘর থেকেও বের হতেন না। ‘বিছানা থেকে উঠেই ফোনটা হাতে নিয়ে পিৎজা অর্ডার করতাম। সেটি না আসা পর্যন্ত শুয়েই থাকতাম। খাওয়া শেষে প্যাকেটটা এক কোণে ছুড়ে ফেলে আবার ঘুমিয়ে পড়তাম।’ এভাবেই কিশোর বয়সের বিষণ্নতার কথা জানালেন এই তারকা।
উইসকনসিনের রিপন কলেজে পড়াশোনার সময় তার জীবন ছিল প্রচণ্ড নিঃসঙ্গ। কালেভদ্রে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে যেতেন, প্রায়ই দরজার হাতল ছুঁয়ে আবার ফিরে আসতেন। ‘শুধু হতাশ না, আমি অসুস্থ ছিলাম। সামাজিকভাবে অসুস্থ, মানসিকভাবে ভীষণ অস্থির,’ বলছিলেন হ্যারিসন।
কিন্তু কলেজ জীবনের তৃতীয় বর্ষে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তীব্র একাকীত্বের মাঝে তিনি খুঁজে পান একটি নাটকের দল। মার্চ মাসে অভিনেতা পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি আবেগভরা কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি ছিলাম একা ও জনবিচ্ছিন্ন। তারপর হঠাৎই নাটক করা একদল মানুষের সঙ্গে পরিচয়। যাদের একসময় আমি অদ্ভুত ভাবতাম, তারাই হয়ে উঠল আপন। এখানেই খুঁজে পেলাম আমার জীবনের লক্ষ্য— গল্প বলা, অন্য কারও চরিত্রে অভিনয় করা। গল্প বলার মধ্যে খুঁজে পেয়েছি আমার জীবন। অন্যদের সঙ্গে কাজ করাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
হ্যারিসন ফোর্ড জানান, কলেজে বন্ধুদের বড় কোনো দলে থাকা হয়নি। শুধু গ্রেড বাড়ানোর জন্য নাটকের ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলাম। শুরুতে কাজ ছিল নাটক পড়া আর বিশ্লেষণ করা। তখনো পুরো বিবরণ পড়ে দেখিনি। পরে দেখি নাটকে একটি অংশে অভিনয়ও করতে হবে। সেটাও ছিল আমার জন্য বড় চমক। আগে কখনো এমন কিছু করিনি।’
‘এভাবেই গল্পের রাজ্যে নিজের জায়গা খুঁজে পেয়েছিলাম। এটা সত্যিই আমার পৃথিবী বদলে দিয়েছে। আমার জীবন বদলে দিয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
অভিনয়ের সেই অপ্রত্যাশিত ক্লাসই তার জীবন বদলে দেয়। আজ তিনি ‘শ্রিংকিং’ সিরিজে একজন থেরাপিস্টের চরিত্রে অভিনয় করছেন— যা একসময় কল্পনায়ও ভাবেননি। হতাশার অন্ধকার থেকে উঠে এসে তিনি এখন অন্যদের মানসিক সংগ্রাম বোঝাতে সাহায্য করছেন।
‘আমি আসলে বেশ হাসিখুশি মানুষ। মজার মানুষদের সঙ্গে থাকলে নিয়মগুলো একটু ঢিলে হয়ে যায়। আমি আনন্দ করতে ভালোবাসি। খুব বেশি সিরিয়াস হতে ভালো লাগে না।’
হ্যারিসন ফোর্ডের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিল্প শুধু বিনোদন নয়। কখনো কখনো তা মানুষকে মুক্তি দেয়।
এই সপ্তাহে বেরিয়েছে এ্যাপল টিভি সিরিজ শ্রিংকিংয়ের তৃতীয় সিজনের ফাইনাল এপিসোড। ৮৩ বছর বয়সী হ্যারিসন ফোর্ড অভিনয় করছেন কঠোর স্বভাবের থেরাপিস্ট ড. পল রোডস চরিত্রে। আশা করা হচ্ছে, চতুর্থ মৌসুমেও তাকে দেখা যাবে এ ভূমিকায়।



