ধর্মতলায় শহীদ দিবসের সভার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে মমতার তৃণমূল

হকারদের নিয়ে একটি প্রতিবাদ র্যালির নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- রয়টার্স
এবারের ২১ জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। ধর্মতলার ঐতিহ্যবাহী সভাস্থলে সমাবেশের অনুমতি না মেলায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী সপ্তাহেই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে শহীদ দিবসের কর্মসূচি করার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু পুলিশ জানিয়ে দেয়, ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ফলে সেখানে কোনো রাজনৈতিক সভা বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। একই কারণে দলের বিদ্রোহী শিবিরকেও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এর পরেই আদালতের শরণাপন্ন হয় তৃণমূল। আবেদনে দলের দাবি, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ যুব কর্মীর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে একই জায়গায় শহীদ দিবস পালন করে আসছে তারা। সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেই তাদের অভিযোগ।
কলকাতা পুলিশের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, ধর্মতলা শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও যান চলাচলে বড়সড় বিঘ্নের আশঙ্কা থাকায় আগেভাগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রেই তা সমানভাবে প্রযোজ্য।
তৃণমূলের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, প্রথমে ২৭ জনের জমায়েতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এমনকি বিকল্প স্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমাধান না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছে দল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের ডাকা অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ সমাবেশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। সময়ের সঙ্গে এই কর্মসূচি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ২১ জুলাই তৃণমূলের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি কর্মসূচি। তাই অনুমতি নিয়ে এই টানাপোড়েন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের রায় নজরকাড়া হবে।




