শীর্ষে আসাম
উত্তর-পূর্ব ভারতে এইচআইভি আক্রান্ত ১ লাখ ২৯ হাজারের বেশি

প্রতীকী ছবি
উত্তর-পূর্ব ভারতে এইচআইভি সংক্রমণ এখনো জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের কারণ। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা, চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি চালু থাকা সত্ত্বেও সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৬ জন এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা আসামে। রাজ্যটিতে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৪৫।
স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বহু বছর ধরেই এইচআইভি সংক্রমণ রোধে বিশেষ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। সচেতনতা অভিযান, বিনামূল্যে পরীক্ষা, পরামর্শ পরিষেবা এবং ওষুধ সরবরাহের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এইচআইভি ধরা পড়লেও নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ ও প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই সংক্রমণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যে মাদক গ্রহণের সময় একই সিরিঞ্জ ব্যবহার, পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক কুসংস্কার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
আসামের বাসিন্দা অনিরুদ্ধ দত্ত বললেন, এইচআইভি নিয়ে এখনো সমাজে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আক্রান্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি দুটোই সমান জরুরি। স্বাস্থ্যকর্মী রেশমি শর্মার মতে, সরকারি সচেতনতা কর্মসূচি আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই বিষয়ে তথ্যভিত্তিক শিক্ষা বাড়াতে হবে।
জনস্বাস্থ্যকর্মী দেবাশিস বোরার ভাষ্য, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই ভয় বা লজ্জার কারণে পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কুসংস্কার দূর করার মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে এইচআইভি সংক্রমণ মোকাবিলায় আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।




