পশ্চিমবঙ্গে জেন জি-র মন পেতে মরিয়া বিজেপি
- বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীনের নজরে নতুন প্রজন্ম
- ২৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় যুব মোর্চার নতুন নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে ‘যুব ভারত সংলাপ’

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর এবার জেন জি-র মন পেতে মরিয়া বিজেপি। জেন জি-র ভোট এবং তাদের রাজনৈতিক মনোভাব নিয়ে দলের অন্দরে যে গুরুত্ব বেড়েছে। তারই ইঙ্গিত মিলছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের দুদিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় যুব মোর্চার নতুন নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে ‘যুব ভারত সংলাপ’ কর্মসূচিতে জেন জি-র সঙ্গে কথা বলার কর্মসূচি রয়েছে তার । মূল লক্ষ্য তরুণ ভোটারদের চিন্তা, ভাবনা, চাহিদা ও রাজনৈতিক প্রশ্ন সরাসরি বোঝার চেষ্টা।
এর পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতাও। গত কয়েকমাসের মধ্যে তরুণদের একাধিক আন্দোলন বিজেপি নেতৃত্বের নজরে এসেছে। বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরি এবং পরীক্ষার মতো বিষয় নিয়ে ছাত্রদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। সেপ্টেম্বরে গোটা ভারতজুড়ে তরুণদের কাছে পৌঁছতে বিজেপি ‘জেন জি’-র বদলে আরও বিস্তৃত ‘যুব’ শব্দ ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে বলে খবর। দলের যুক্তি, তরুণদের একটি মাত্র শ্রেণি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আর পশ্চিম বাংলার ক্ষেত্রেও এই হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি ভোটার ছিলেন প্রায় ১ কোটি ৩৭ লক্ষ। তাদের মধ্যে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ছিলেন প্রথমবারের ভোটার। সূত্র অনুযায়ী, বিজেপির যুব মোর্চা চাকরি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বুথস্তরের কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছেছিল। সংগঠনের এক নেতা দাবি করেছিলেন, ‘চাকরি চাই বাংলা’ কর্মসূচিতে প্রায় ১০ লক্ষ তরুণ অংশ নিয়েছিলেন।
নীতীনের বঙ্গ সফরের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এসে তিনি নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে রাজ্য নেতৃত্ব, সাংসদ, বিধায়ক, জেলা নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন মোর্চার সঙ্গে বৈঠক করেন। পুরসভা নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার কথাও উঠে আসে। সম্প্রতি যুব মোর্চার সভাপতির পদে ইন্দ্রনীল খাঁর জায়গায় আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তকে আনা হয়েছে। নারী ও যুব সংগঠন -সহ একাধিক সাংগঠনিক স্তরেও বদল হয়েছে।
এর আগেই ৭ সেপ্টেম্বর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন যে, তরুণ প্রজন্মের উপর দলের মত চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নয় বিজেপি। তাঁর দাবি, জেন জি নিজেদের ভাষায় কথা বলার স্বাধীনতা পায়। আগস্টে অবশ্য শমীকই বলেছিলেন, দলের নির্দিষ্ট মতাদর্শের কারণে কখনও কখনও প্রচলিত কর্মী ও জেন জি-র মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, তরুণেরা অনেক সময় খুব ছোট ভিডিয়োর মাধ্যমে খবর পায়। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরনও বদলাতে হচ্ছে।
আরএসএসও এই প্রজন্মকে নিয়ে আলাদা করে ভাবছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত সম্প্রতি জেন জি-র সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে যে, তরুণদের শুধু নিজেদের বক্তব্য শোনানো নয়। তাদের প্রশ্নও শুনতে হবে। সেই পথেই এবার বাংলায় নীতীনের কর্মসূচি। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বরের ‘যুব ভারত সংলাপ’ শুধু একটি দলীয় কর্মসূচি নয়। বাংলার তরুণ ভোটারদের নিয়ে বিজেপির নতুন রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য যে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটিই নীতীনের প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফর ।



