পশ্চিমবঙ্গ
‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক আদালতে, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত শাস্তি নয়

প্রতীকী ছবি
ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার দাবি নিয়ে চলমান মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ না গাওয়ার কারণে কোনো ছাত্র, শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে কাউকে চাপ প্রয়োগ বা শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যকে লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।
শুনানিতে আদালত আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দেবে সব পক্ষ।
রাজ্যের পক্ষে আদালতে জানানো হয়, ‘বন্দে মাতরম’ না গাওয়ার কারণে কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি আইনজীবী বলেছেন, জোরপূর্বক গান গাওয়ানো বা এ নিয়ে হয়রানির যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তার পক্ষে এখনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এক পক্ষের মতে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই গান জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। অন্যদিকে, বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করেন, জাতীয় গান গাওয়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের বিষয়; এটি বাধ্যতামূলক করা উচিত নয়।
মামলায় আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন সামিম আহমেদ। অন্যদিকে, রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান বলেছেন, কেউ স্বেচ্ছায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে তাদের আপত্তি নেই। তবে গানটি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের বিরোধিতা করছে তাদের সংগঠন।
এদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় প্রতীক ও দেশাত্মবোধক গানের ব্যবহার কতটা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত, সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। আগামী ৬ জুলাই রাজ্য সরকারের রিপোর্ট জমা পড়ার পর মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




