পশ্চিমবঙ্গে ফের খুলছে পশুর হাট

প্রতীকী ছবি
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পশ্চিমবঙ্গে আবার চালু হতে চলেছে পশু কেনাবেচার হাট। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানান যে, সরকারি নিয়ম ও নির্দিষ্ট বিধি মেনেই বন্ধ থাকা পশুর হাটগুলি ফের চালু করা হবে। তবে ঠিক কোন তারিখ থেকে হাটগুলিতে আবার কেনাবেচা শুরু হবে, তা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য সরকার জানায়নি।
মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমেও এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন হাট বন্ধ থাকায় গ্রামবাংলার কৃষক, পশুপালক ও ছোট ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছিলেন। পশু পালন করে যারা সংসার চালান, তাদের জন্য সরাসরি কেনাবেচার সুযোগ কমে গিয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল গ্রামের অর্থনীতিতেও। এই সমস্যা কাটাতেই সরকার নতুন করে হাট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর পশু কেনাবেচা ও গবাদিপশু জবাই সংক্রান্ত নিয়মে কড়াকড়ি বাড়ে। এরপর বিভিন্ন পশুর হাট বন্ধ হয়ে যায়। এ বছরও ১৩ মে রাজ্য সরকার পশু জবাই সংক্রান্ত ১৯৫০ সালের আইন এবং আদালতের নির্দেশ মেনে নতুন করে নিয়ম জানায়। সেই নিয়মে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে গবাদিপশু জবাই করা যাবে না।
হাট বন্ধ হওয়ার ফলে ইলামবাজারের সুখবাজার, হুগলির মায়াপুর এবং পুরুলিয়ার কাশীপুর, বড়টাঁড়, বলরামপুর ও ঝালদার মতো হাটের ব্যবসায়ী ও ইজারাদারেরাও সমস্যায় পড়েছিলেন। কোথাও পশু কেনাবেচা কমে যায়, কোথাও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
এবার সরকারের বক্তব্য, নিয়ম মেনেই হাট চালানো হবে। সরকারি নজরদারি থাকবে, যাতে বেআইনি পশু কেনাবেচা বা পাচার না হয়। প্রশাসনের মতে, সঠিক নিয়ম কার্যকর হলে কৃষক ও ক্রেতা দুই পক্ষই নিরাপদ পরিবেশে পশু কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। ক্ষুদিরাম টুডু এই সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হলে প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলির আর্থিক চাপও কিছুটা কমবে।



