পশ্চিমবঙ্গ
এবার কালীঘাটে মমতার বোনের ফ্ল্যাটে সিআইডি

সংগৃহীত ছবি
কলকাতার কালীঘাটে ফের তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির একটি দল হঠাৎ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ২৯/ডি নম্বর বাড়িতে পৌঁছয়। সূত্রের খবর, ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর এক বোন বসবাস করেন এবং সেই ফ্ল্যাটেই যান সিআইডি কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তদন্তকারী দল এলাকায় আসে। ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে আশপাশের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন তারা। এরপর নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের দিকে যান। তদন্তকারীদের এই উপস্থিতি ঘিরে এলাকায় কৌতূহল যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনই শুরু হয়েছে নানা জল্পনাও। তবে সিআইডির এই পদক্ষেপের নেপথ্যে ঠিক কোন তদন্ত রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে কালীঘাটে হঠাৎ এই অভিযান নিয়ে রহস্য আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ এবং ডিজে-সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের মামলাকে ঘিরে সিআইডি বেশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি দলের কার্যালয়েও তল্লাশি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রেক্ষাপটে কালীঘাটে এই নতুন তৎপরতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের একাংশের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে চাপে রাখতে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবারের সদস্যদের অস্বস্তিতে ফেলতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, তদন্তের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। এ ছাড়াও তৃণমূল নেতা রাহুল সিকদার জানিয়েছেন, তদন্তের বিরোধিতা করার প্রশ্নই নেই। কিন্তু বারবার আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ঘিরে এ ধরনের পদক্ষেপ হওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। আমরা মনে করি, আইন তার নিজের পথে চলুক, তবে তদন্তের নামে রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা হওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তার বক্তব্য, বিষয়টির সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ আইনগত ও তদন্ত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, তাই অযথা রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা তথাগত মণ্ডল বলেছেন, কালীঘাটে নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বাড়ি রয়েছে, তাই মাঝেমধ্যে তদন্তকারী সংস্থার যাতায়াত দেখা যায়। কিন্তু এ দিনের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।




