পশ্চিমবঙ্গে ২৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ, ফেরাতে যেতে হবে ট্রাইব্যুনালে

পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের নাম ফেরাতে সরাসরি নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা যাবে না। তাদের যেতে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন। ফলে নাম বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে আবারও নতুন করে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ।
নির্বাচন কমিশনের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন যে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় যাদের নাম বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালগুলোর প্রতিটির দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। ফলে এই মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের। নির্বাচন কমিশনের নয়।
তবে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে কমিশনের সাম্প্রতিক একটি ঘোষণাকে ঘিরে। গত শনিবার কমিশন জানিয়েছিল যে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বা পরে যাদের নাম ভোটার তালিকায় নেই। তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। নতুন ভোটাররাও একই প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবেন। শুনানির জন্য ভোটারদের দপ্তরে ডাকার বদলে বুথস্তরের কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কিন্তু এই ‘নাম তোলার’ ব্যবস্থা ২৭ লাখের বেশি বাদ পড়া ভোটারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা কিন্তু কমিশন স্পষ্ট করেনি। সাধারণভাবে নতুন ভোটার বা তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা ছয় নম্বর ফর্মের মাধ্যমে নাম তোলার আবেদন করতে পারেন। এবারও সেই ফর্ম ব্যবহার করতে বলা হলেও বাদ পড়া ২৭ লাখ ভোটারের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে চলা আবেদনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া বা নাম অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৩৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এরমধ্যে ২২ লাখ ২১ হাজারের বেশি আবেদন করেছেন বাদ পড়া ভোটাররা, যারা নিজেদের নাম ফেরত চান। অর্থাৎ বাদ পড়া ২৭ লাখ ১৬ হাজার ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশই ইতিমধ্যে আপিল করেছেন।
তবে সব আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসাবে, ৩৮ লাখের বেশি আবেদনের মধ্যে মাত্র প্রায় ১ লাখের নিষ্পত্তি হয়েছিল। পরে কমিশন জানিয়েছে যে, দ্রুত কাজ শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনালে এসব আবেদন চলছে। এই পরিস্থিতিতে বাদ পড়া ভোটারদের প্রশ্ন, তারা শেষ পর্যন্ত কোন পথে নাম ফেরাবেন। কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রের ভোটার ও আইআইএম কলকাতার সহযোগী অধ্যাপিক নন্দিতা রায়ের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেও এখনও কোনও উত্তর পাননি। প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আবেদনটির অবস্থান দেখছেন তিনি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি আগামী ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা। তার আগে বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় বাদ পড়া ভোটারদের উদ্বেগও বাড়ছে।



