পশ্চিমবঙ্গ
বিধানসভায় সাংবাদিক প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ, বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক

সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সাংবাদিকদের প্রবেশ ও চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে রাজ্য সরকার। আজ শুক্রবার প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট প্রেস কর্নারের বাইরে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি কোনও বিধায়ক (এমএলএ) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অধ্যক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
নতুন এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বিধানসভার মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের কাজের পরিসর সংকুচিত করার চেষ্টা।
গোটা বিশ্বে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় ভারতের স্থান তলানির দিকে। প্রতিবেশী বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের অনেক নিচে সেই অবস্থান। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরওয়ে গেলে সেখানে নরেন্দ্র মোদি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ১ নম্বরে থাকা নরওয়েতে সাংবাদিকদের এই অপমানে সরব হয় গোটা বিশ্ব।
এতদিন সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুনতে ও দেখতে পারতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিধায়কের (এমএলএ) কক্ষে গিয়ে সাক্ষাৎকার বা প্রতিক্রিয়াও নিতে পারতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না। সাংবাদিকদের শুধুমাত্র প্রেস কর্নারেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে এবং কোনও প্রেস ব্রিফিং বা সাংবাদিক বৈঠক করতে হলে অপেক্ষা করতে হবে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বোস কোনো বিধায়ককে (এমএলএ) প্রেস ব্রিফ বা প্রেস কনফারেন্স করতে দেন কি না, তার জন্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান বিধায়ক (এমএলএ) শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মন্তব্য, আমরা প্রেস কর্নারে যাব, তার জন্য অনুমতি নিতে হবে। গণতান্ত্রিক দেশে এটা হতে পারে? সংসদে আছে? ভারতবর্ষের কোনও বিধানসভায় এমন ব্যবস্থা আছে কি না জানি না।
সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত বিধায়ক (এমএলএ) কুণাল ঘোষও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল সরকার বা তার আগের বাম আমলেও সাংবাদিকদের চলাচলে এ ধরনের বাধা ছিল না।
তার বক্তব্য, ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ায় প্রেস কর্নারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সাংবাদিকরা মোবাইলে ছবি তোলা বা সাক্ষাৎকার নেওয়ার স্বাধীনতা পেতেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, অধ্যক্ষ কোনও প্রস্তাব খারিজ করলে সেই খবর করতে গেলেও কি তার অনুমতি নিতে হবে?
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন এই নির্দেশিকা আরও বিতর্ক উসকে দিয়েছে।






