কাঁটাতারের জমি অধিগ্রহণে ভারতের বনগাঁ সীমান্তে মন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের উদ্যোগে জোর দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার সেই প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরাও। রবিবার (১৭ মে) উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে অধিগ্রহণযোগ্য এলাকা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন, জেলা শাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখানে কিছু জটিলতা রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জমি অধিগ্রহণের। বনগাঁ এলাকায় একটি ছোট ছিটমহলও রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সব সমস্যার সমাধান করার জন্য জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন যেখানে-সেখানে কোনো ধরনের বাধা মানা হবে না।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারে দাবি করেছিলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ হবে। সেই সীমান্তনীতির ওপর নির্ভর করেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় নির্বাচনে ব্যাপক আসন জয় সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি। নির্বাচনের আগে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি পালনে এই মুহূর্তে তৎপর রাজ্য সরকার।
জমিসংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে রবিবার থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে একযোগে মাঠে নেমে কাজ শুরু করলেন বিজেপির মন্ত্রী ও বিধায়করা। তবে বাংলায় যে জমিনীতি রয়েছে, তার ভিত্তিতে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে কাঁটাতার দেওয়া আদৌ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যথাযথভাবে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বারবার অনুপ্রবেশের অভিযোগ করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গ তথা পুরো দেশের জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনেও এ ইস্যুকে সামনে রেখে লড়াই করেছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ৪৫ দিনের মধ্যে অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলায় ৭৭ থেকে ২০৭ আসন জয়ের পেছনে এ বিষয়টি কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি বিজেপির।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পরই রাজ্যের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দিতে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মোট সীমান্ত ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৫৬৩ কিলোমিটার কাঁটাতারবিহীন, যা রাজ্যের বিভিন্ন জেলাগুলোর মধ্যে।
সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনায় অরক্ষিত ৩১ কিলোমিটার। নদিয়ায় কাঁটাতার নেই ২৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার। মালদহে অরক্ষিত ৩৩ কিলোমিটার। দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৫ ও মুর্শিদাবাদে ১২৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটারের বেশিরভাগ অংশই কাঁটাতারবিহীন। উত্তরের জেলাগুলোর ক্ষেত্রেও বেশিরভাগই অরক্ষিত বলে দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে আরেক রাজ্য আসামে ২০২১ সাল থেকে বিজেপি সরকার ক্ষমতায়। ওই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ২০২৬ সালেও প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো কাঁটাতারবিহীন। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আসামের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেক্ষেত্রে বাংলায়ও ৪৫ দিনের ডেডলাইন বেঁধে কাজ শুরু করলেও আদৌ তা কতটা করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।




