নৌবহরে ব্রহ্মোসের মোতায়েন বাড়াচ্ছে ভারত

ছবি: রয়টার্স
ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য আরও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চার ও ফায়ার-কন্ট্রোল সিস্টেম কেনার চুক্তি করেছে দেশটি। এর মাধ্যমে নৌবহরজুড়ে ভারতের প্রধান সামুদ্রিক হামলার অস্ত্রটির মোতায়েন আরও বাড়ানো হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে মঙ্গলবার ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের চুক্তি সই করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য ফায়ার-কন্ট্রোল সিস্টেম ও লঞ্চার কেনা হবে। দেশেই নকশা করা ও উৎপাদিত সামরিক সরঞ্জাম কেনার একটি প্রকল্পের আওতায় এ চুক্তি করা হয়েছে।
ভারতের বেশ কয়েকটি সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ, যার মধ্যে ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট রয়েছে, ইতিমধ্যে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমিশন পাওয়া নতুন যুদ্ধজাহাজগুলোতে মানসম্মত সরঞ্জাম হিসেবে এই ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। আর পুরনো যুদ্ধজাহাজগুলোতেও ধাপে ধাপে এটি সংযোজন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নৌবহরে ব্রহ্মোসের মোতায়েন বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ কাজ চলছে।
নৌবাহিনীর প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্রহ্মোস উল্লম্বভাবে বা কাত করে ছোড়া যায়। এটি সুপারসনিক গতিতে দীর্ঘ পাল্লায় যুদ্ধজাহাজ ও স্থল—দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
ভারতীয় নৌবাহিনী ২০০৫ সাল থেকে ব্রহ্মোস ব্যবহার করছে। ওই বছর এর জাহাজবিধ্বংসী সংস্করণ রাজপুত শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারে সংযোজন করা হয়। এরপর থেকে এই ব্যবস্থা নৌবাহিনীর প্রধান ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানার অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস হলো ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোইনিয়ারিয়ার যৌথ উদ্যোগ। এই কর্মসূচির আওতায় জাহাজ, স্থল ও আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে।
নতুন প্রকল্পে অন্তত ৬৮ শতাংশ দেশীয় উপাদান থাকবে। এতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ ভারতীয় কোম্পানিগুলোও যুক্ত থাকবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিন বছরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নত সামরিক প্রযুক্তিতে দেশীয় অংশগ্রহণও বাড়বে।
সূত্র: আরটি




