কুয়েতে ‘ফ্রি ভিসা’র ফাঁদে সর্বস্বান্ত বাংলাদেশিরা
- দালালদের প্রলোভনে ঋণ করে গিয়ে বিপাকে প্রবাসীরা

সংগৃহীত ছবি
অভাব ঘোচানো আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে পাড়ি জমান অসংখ্য মানুষ। কেউ বিক্রি করেন ভিটেমাটি, কেউ আবার চড়া সুদে ঋণ নেন। কিন্তু কুয়েতে পৌঁছানোর পর তাদের অনেকেরই স্বপ্ন ভেঙে যায়। দালালদের প্রলোভনে তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ কিনে দেশটিতে গিয়ে কাজ ও আইনি জটিলতায় পড়ছেন তারা। শেষ পর্যন্ত হারাতে হচ্ছে সঞ্চিত অর্থ, বাড়ছে ঋণের বোঝা, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে প্রবাসজীবন।
কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী, ‘ফ্রি ভিসা’ নামে কোনো ভিসার অস্তিত্ব বা আইনি স্বীকৃতি নেই। দেশটির প্রচলিত আইনে একজন কর্মী নির্দিষ্ট কফিল বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে বাধ্য। কিন্তু অসাধু দালাল চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভিসা বিক্রি করে। তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কুয়েতে গিয়ে যেকোনো জায়গায় স্বাধীনভাবে কাজ করা যাবে। বাস্তবে এমন সুযোগ না থাকায় দেশটিতে পৌঁছে বিপাকে পড়েন কর্মীরা।
এ ছাড়া ২০ নম্বর বা ‘খাদেম’ ভিসার অপব্যবহারও হচ্ছে। গৃহকর্মী ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকের কাজের জন্য দেওয়া এই ভিসায় কুয়েতে গিয়ে নির্মাণশ্রমিক কিংবা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন অনেকে। অথচ ভিসার নির্ধারিত কাজের বাইরে অন্য পেশায় যুক্ত হওয়া দেশটির আইনে বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ায় 'রুশপন্থী' হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তু ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী
০৮ নভেম্বর ২০২৬
কুয়েতের আইন অনুযায়ী, কফিলকে মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে বা স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। কোনো কারণে কফিল আকামা বাতিল করলে কিংবা কর্মীর বিরুদ্ধে ‘হুরুব’ বা কর্মস্থল থেকে পালানোর অভিযোগ দায়ের করলে বিপাকে পড়েন শ্রমিকেরা। এতে তারা আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। বর্তমানে অবৈধ অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কুয়েতি প্রশাসন। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ও আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন প্রবাসীদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, দালালের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে কিংবা না বুঝে তথাকথিত ফ্রি ভিসার ফাঁদে পড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কুয়েতের আইনে ফ্রি ভিসা বলতে কিছু নেই। এক ভিসায় এসে অন্য পেশায় যুক্ত হওয়াও পুরোপুরি অবৈধ।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে কুয়েতে আসার আগেই কাজের ধরন, স্পন্সর এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা ও সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ. হ. জুবেদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি এ সংকট মোকাবিলায় আইনি কঠোরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও আগাম সতর্কতা প্রয়োজন। প্রবাসে যাওয়ার আগেই কাজের ক্ষেত্র, কোম্পানির প্রকৃত লাইসেন্স এবং চুক্তিপত্রের শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ যেন অসাধু দালালদের পকেটে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে।




