ট্রাম্পপন্থী ফ্ল্যাভিও ক্ষমতায় এলে কেমন হতে পারে ব্রাজিল

ফ্ল্যাভিও বলসোনারো
ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে এক চরম উত্তেজনাকর অধ্যায়। বর্তমান রাষ্ট্রপতি লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সিনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো যেভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন, তাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় ধরনের পালাবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রক্ষণশীল ধারা, মার্কিন প্রশাসনের সাথে গভীর সখ্য এবং অর্থনৈতিক বাজারে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বৈশ্বিক গণমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
কে এই ফ্ল্যাভিও বলসোনারো
৪৬ বছর বয়সী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো রিও ডি জেনেরিওর একজন রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ও বর্তমান ফেডারেল সিনেটর। তিনি ১৯৮১ সালের ৩০ এপ্রিল রেসেন্দে শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাইর বোলসোনারো এবং তার প্রথম স্ত্রী রোজেরিয়া বোলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র।
ফ্ল্যাভিও বলসোনারো পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অন্যতম প্রধান মুখ। তার এবারের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল রক্ষণশীল মূল্যবোধের প্রচার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান। রক্ষণশীল ও ব্যবসায়িক মহলে তার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে তার এবং তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সখ্য। ট্রাম্পের সাথে বলসোনারোর এই সুসম্পর্ক ব্রাজিলের বর্তমান রাজনীতিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে।
ফ্ল্যাভিও বলসোনারো মার্কিন প্রশাসনের সাথে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে ব্রাজিলের অর্থনীতি ও বিরল খনিজ সম্পদের সঠিক সদ্ব্যবহার করা সম্ভব।
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, বলসোনারো পরিবারের এই মার্কিন সংযোগ ভোটারদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করছে, যারা বর্তমান প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির বিকল্প খুঁজছেন। তবে এর বিপরীতে লুলার শিবির মার্কিন প্রভাবে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে জাতীয়তাবাদী সেন্টিমেন্টকে জোরালো করার চেষ্টা করছে।
লুলার বিপরীতে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পর থেকেই আর্থিক বাজারে ইতিবাচক হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
শেয়ারবাজার বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, রক্ষণশীল ও উদার অর্থনৈতিক নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে কর্পোরেট খাতের নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, যা দেশের প্রধান শেয়ার সূচকগুলোকে ওপরে তুলতে পারে।
ডলারের দরপতন ও অস্থিরতা
স্থানীয় মুদ্রার মান শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দরপতনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক রূপান্তরের এই পর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বল্পমেয়াদে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অস্থির সেশনের আশঙ্কা করছেন।
ফ্ল্যাভিও ক্ষমতায় এলে ব্রাজিল কেমন হতে পারে
রাজনৈতিক বিশ্লেষক্তের মতে, ফ্ল্যাভিও বলসোনারো যদি ব্রাজিলের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন, তবে দেশটিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো দেখা যেতে পারে:
উদার অর্থনৈতিক সংস্কার: রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কমিয়ে বেসরকারীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ নীতি
অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তায় জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হতে পারে।
আমেরিকা-ঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতি: লুলার স্বাধীন বা বামপন্থী ঝোঁকপূর্ণ কূটনীতির বিপরীতে মার্কিন প্রশাসনের সাথে সরাসরি কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি পাবে।
সামগ্রিকভাবে, ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর রাজনৈতিক উত্থান কেবল ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারকেই প্রভাবিত করছে না, বরং ওয়াশিংটনের সাথে নতুন সমীকরণের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।



