মিগেল দিয়াজ-কানেল
কিউবাকে ‘কুক্ষিগত’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল- রয়টার্স
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল রবিবার তার দেশের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের নীতিকে ‘গণহত্যামূলক নীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিউবাকে ‘কুক্ষিগত করার’ চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অর্থনৈতিক অবরোধের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার ওপর আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্যত তেল অবরোধ এবং কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও।
এই পদক্ষেপ আসে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর। মাদুরো ছিলেন কিউবার কমিউনিস্ট নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান মিত্র এবং দেশটির জন্য স্থিতিশীল তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবায় পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বিদেশি কোম্পানি দেশটি ছেড়ে গেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া ও চীনের মিত্র কিউবা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং দেশটি নিজ নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘন করছে।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কিউবার বিদেশে পরিচালিত চিকিৎসা মিশন কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এটি দেশটির বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
পশ্চিমাঞ্চলীয় পিনার দেল রিও প্রদেশে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে দিয়াজ-কানেল বললেন, ‘আজ কিউবা একটি ঐতিহাসিক সংগ্রাম লড়ছে। এটি এমন একটি গণহত্যামূলক নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম, যার উদ্দেশ্য পুরো একটি জাতিকে শ্বাসরোধ করে দেশটিকে নিজেদের দখলে নেওয়া।’
তিনি ১৯৫৩ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে মোনকাদা ব্যারাকে হামলার ৭৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই হামলাকে কিউবান বিপ্লবের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দিয়াজ-কানেল বললেন, ‘অবরোধ একটি যুদ্ধের অস্ত্র এবং এটি মানুষের মৃত্যু ঘটায়।’ তার অভিযোগ, কিউবাসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, যাতে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।
৯৪ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবায় চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েক দফা দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। রাজধানীতে কখনো কখনো টানা ৩০ ঘণ্টা এবং বিভিন্ন প্রদেশে কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এই সংকট নিয়ে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষের মুখে দিয়াজ-কানেল জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার বাস্তবায়নের’ ওপর জোর দেন।
গত জুনে কিউবা সরকার মুক্তবাজারভিত্তিক কয়েকটি বড় অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর করে। তবে একই সঙ্গে সরকার বারবার জানিয়েছে, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা আলোচনার বিষয় নয় এবং যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।




