ধ্রুব রাঠী-প্রকাশ রাজের মঞ্চে জ্ঞানেশ কুমার ‘গদি ছাড়’ স্লোগান
- নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বেঙ্গালুরুতে ‘গণ আদালত’
- দিল্লি-আহমেদাবাদে বিক্ষোভ রাষ্ট্রপতির দরবারে ইন্ডিয়া

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে ভারত জুড়ে বিরোধী আন্দোলনের আঁচ এবার বেঙ্গালুরুতেও। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে বসে ‘গণ আদালত’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। ধ্রুব রাঠী, অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের মঞ্চ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘গদি ছাড়ার’ ডাক দেওয়া হয়। ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’-এর এই মঞ্চে কর্ণাটকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এমন মানুষও নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যারা দাবি করেছেন, এসআইআরের সময় ভোটার তালিকায় তাদের নাম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এদিন তাদের মূল দাবি ছিল, এসআইআর বন্ধ করতে হবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। একই দাবিতে দিল্লি ছুটেছে ‘মমতা ট্রেনও।’
ধ্রুব রাঠী নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, এই লড়াই কোনো সরকার বদলের জন্য নয়; গণতন্ত্র রক্ষার জন্য।
প্রকাশ রাজ আরও কড়া আক্রমণ করেন। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রভাবের বাইরে কাজ করছেন না। এসআইআর মানুষের ভোটাধিকার ও মর্যাদার ওপর আঘাত বলেও দাবি করেন তিনি। বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি গতকাল পাটনাতেও উত্তেজনা ছড়ায়। তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের ‘আক্রোশ মিছিল’ রাজভবনের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। তেজস্বীসহ কয়েকজন নেতাকে পুলিশের গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিরোধীদের দাবি, এসআইআরে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
হায়দরাবাদেও ‘চলো লোকভবন’ কর্মসূচিতে নামে কংগ্রেস ও বাম দলগুলো। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকালে কয়েকজন নেতা আটক হন। একই দিনে আহমেদাবাদে কংগ্রেসের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ মিছিলের কর্মসূচি ছিল। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিও তোলা হয়। আর দিল্লিতে গতকালও রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়গেসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। রাজঘাটের দিকে যাওয়ার কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। কংগ্রেসের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এভাবেই এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ বেঙ্গালুরু, পাটনা, হায়দরাবাদ ও দিল্লি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে। এরপর নজর ১০ অক্টোবরের দিকে। ওইদিন দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি, এআইএসএ, এআইএসএফ, এসএফআইসহ একাধিক ছাত্রসংগঠন বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
এদিকে রাজপথে আন্দোলনের পর এবার রাষ্ট্রপতির দরবারে যাচ্ছে ইন্ডিয়া জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর নিয়ে আজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করবেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা। ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই দলে থাকার কথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের।



