‘তৃতীয় বিশ্বে’ পরিণত হয়েছে ইউরোপ

ডোনাল্ড ট্রাম্প- রয়টার্স
অভিবাসন নীতির ব্যর্থতার কারণে ইউরোপের দেশগুলো ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের ২৫০তম বার্ষিকীর উদ্যাপনের মধ্যেই ট্রাম্প আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করেন।
শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আপনি যখন তৃতীয় বিশ্বের অপরাধীদের আশ্রয় দেন, তখন আপনিও তৃতীয় বিশ্বের দেশে পরিণত হন। এটা খুব দ্রুত ঘটে—চোখের পলকেই।’
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, অভিবাসন নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র একই পরিণতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘ঠিক সময়েই আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম!!!’
২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমে এলেও, আরএফবার্লিনের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অন মাইগ্রেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ইইউতে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ৬ কোটি ৪২ লাখে পৌঁছেছে। ২০১০ সালের পর থেকে এই সংখ্যা বেড়েছে ২ কোটি ২ লাখ।
এদিকে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ব্রিটিশ রাজনীতিতে কোনো কিছু গুরুতরভাবে ভেঙে পড়েছে’ এবং ‘মানুষ প্রকৃত অর্থেই বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চাইছে।’
গত সপ্তাহে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেন ভ্যান্স। এক দশকের মধ্যে স্টারমার ছিলেন যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, যিনি পদ ছাড়লেন।
ভ্যান্স বলছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের ব্যর্থতার শিকার হয়েছে যুক্তরাজ্য’ এবং দেশটি ‘বর্তমানে যা করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করতে সক্ষম।’
গত সপ্তাহে ট্রাম্প সতর্ক করেন, ইইউ যদি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ডিজিটাল সেবার ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন তিনি।
এর আগে জুনের শেষ দিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, জোটটির অধিকাংশ ইউরোপীয় সদস্যকে নিয়ে তিনি ‘হতাশ’।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আনুগত্য চাই... জার্মানিতে আমাদের ৫০ হাজার সেনা রয়েছে। তারপরও আপনাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু চাই—একটু সহযোগিতা, সামান্য আন্তরিকতা। আমরা খুব বেশি কিছু চাই না। কিন্তু তারা বলে, ‘না, আমরা তা করতে পারি না।”
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে চলতি সপ্তাহে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, ‘ন্যাটোর ধারণা অন্ধ আনুগত্যের নয়; বরং স্বাধীনভাবে বিবেচনার চেতনার ওপর ভিত্তি করে।’
ডের স্পিগেলকে তিনি বলেছেন, জোটের সিদ্ধান্তগুলো ‘সব সদস্যরাষ্ট্রের স্বাধীন ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়, কোনো একক সদস্যরাষ্ট্রের নির্দেশে নয়।’




