‘আমার স্ত্রী এখনো কাদার নিচে কোথাও আছে’

কেশব প্রসাদ বরাল। ছবি: রয়টার্স
নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত হাজার হাজার মানুষ। কেউ ভেসে গেছেন বানের তোড়ে, কেউ চাপা পড়েছেন বন্যায় ভেসে আসা কাদায়। ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছেন কেউ কেউ। তাদেরই একজন কেশব প্রসাদ বড়াল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যাটি সরাসরি আমাদের দিকে ধেয়ে আসা কাদার এক বিশাল স্রোতের মতো মনে হচ্ছিল।
গতকাল বুধবারের এ বন্যায় এখন পর্যন্ত নেপালে ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে চীনের তিব্বতে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
একটি ছোট হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি। তিনি বললেন, পানি তার বাড়িতে ঢোকার আগেই উঠে যায় অনেক উঁচুতে।
তিনি তখন তার স্ত্রীর হাত ধরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি ভেসে যান, যোগ করেন তিনি।
কেশবের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা পর পানি কমার আগে কাদা তার বাড়ির উপরের তলা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
তাকে উদ্ধার কীভাবে করা হলো জানালেন তিনি সে গল্প। বললেন, চার-পাঁচ ঘণ্টা পর, আমাকে উদ্ধার করতে একটি হেলিকপ্টার এলো।
দুঃখের সঙ্গে জানালেন স্ত্রী হারানোর কথা। তার ভাষ্য, ‘আমার স্ত্রী এখনো কাদার নিচে কোথাও আছে। সে আর নেই।’
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ভূমিধসে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ জনে। এদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
জিরং-এর সীমান্তটি চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান সংযোগস্থল।
এর আগে নেপাল জানিয়েছিল, প্রায় ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি।










