সার্বিয়ায় ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে হামলা, পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ

বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে হামলার পর বুধবার আধাসামরিক পুলিশের টহল— রয়টার্স
সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে বুধবার ভোরে এক তরুণকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিৎসা দাচিচ বলেছেন, হামলাকারী দুই হাতে দুটি ছুরি নিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার দিকে তেড়ে যান। এ সময় তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করছিলেন। এতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা মুখে ছুরির আঘাতে সামান্য আহত হন। পরে তিনি হামলাকারীকে গুলি করেন।
দাচিচ জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ও সার্বিয়ার নাগরিক। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সমর্থক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তার ওপর নজর রাখছিল।
দূতাবাসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দাচিচ বলেছেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি তার ইনস্টাগ্রামে ইসলামিক স্টেটের পতাকার একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন।
দেশে সন্ত্রাসী হামলার হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এটি দেশটির সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক স্তর। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, জনসমাগমস্থলসহ বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার এবং পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে।
ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে বুধবার সকালে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীদের পাহারা দিতে দেখা যায়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, এ ঘটনায় দূতাবাসের কোনো কর্মী আহত হননি। হামলার সময় বন্ধ ছিল দূতাবাসটি।
তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসে এ ধরনের দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটল। ২০২৪ সালের জুনে এক ব্যক্তি ক্রসবো দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঘাড়ে তীর ছুড়েছিলেন।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা হামলা থেকে বেঁচে যান এবং পাল্টা গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে হত্যা করেন। হামলাকারী ছিলেন সার্বিয়ার এক নাগরিক, যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
ইসরায়েলে নির্বাচনের ঠিক এক দিন পর বুধবারের এ হামলার ঘটনা ঘটল।
সূত্র: বিবিসি




