রেকর্ড তাপ প্রবাহে পুড়ছে জার্মানি, ডেনমার্ক ও চেক প্রজাতন্ত্র

সংগৃহীত ছবি
ইউরোপ জুড়ে চরম আবহাওয়ার পারদ আরও চড়েছে। গতকাল শনিবার মহাদেশটির বেশ কয়েকটি দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জার্মানি টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড প্রত্যক্ষ করেছে। দেশটিতে তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
গ্রীষ্মের শুরুতেই নজিরবিহীন এই তাপ প্রবাহ এখন আরও উত্তর ও পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। এতে ডেনমার্ক এবং চেক প্রজাতন্ত্রেও তাপমাত্রার পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। বর্তমানে ইউরোপের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তীব্র গরমে ভুগছেন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে বলেছে, এই তাপ প্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্য এবং ইকোসিস্টেমের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। আইবেরিয়ান উপদ্বীপ থেকে শুরু হওয়া এই তাপ প্রবাহে গত এক সপ্তাহে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের মোকার্ন-ড্রেউইটজে সর্বোচ্চ ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মাত্র একদিন আগে ফ্রান্স সীমান্তের কাছে সারব্রুকেনে ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এর ফলে শনিবারের এই রেকর্ডে ভেঙে যায়।
জার্মানির গ্রিন পার্টির সাবেক নেতা ও রাজনীতিবিদ কাটরিন গোয়েরিং-একার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই তাপ প্রবাহ গ্রীষ্মকালীন কোনো মনোরম আবহাওয়া নয়। এটি একটি স্বাস্থ্য সংকট।’
তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিতে বার্লিনে পুলিশ সাধারণ মানুষের ওপর জলকামান দিয়ে হালকা পানি স্প্রে করেছে।
চেক প্রজাতন্ত্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (সিএইচএমআই) জানিয়েছে, প্রাগের উত্তরে ডোকসানি আবহাওয়া স্টেশনে শনিবার দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, ডেনমার্কের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আরহুসের কাছাকাছি ওডাম এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। যা ১৯৭৬ সালের ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল।
সুইজারল্যান্ডেও টানা তৃতীয় দিনের মতো জুনের উষ্ণতম দিনের রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ব্যাসেলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
কেন এই তাপ প্রবাহ
বিবিসির প্রধান আবহাওয়া উপস্থাপক বেন রিচ বলেছেন, ধীরে চলতে থাকা একটি স্থায়ী উচ্চ চাপ বলয়ের (হিট ডোম) কারণেই এই তাপ প্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। এই উচ্চ চাপ ব্যবস্থার নিচে থাকা বাতাস সংকুচিত ও উত্তপ্ত হয়ে দিন দিন তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় তীব্র সূর্যালোক চারপাশকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলছে।
সূত্র : বিবিসি





