ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অর্ধলাখ প্রাণ

সংগৃহীত ছবি
পুবের ব্যস্ত সূর্য তখন পশ্চিমে। রাজধানী কারাকাসের ঘড়িতে বিকাল ৬টা ৪ মিনিট। অফিসপাড়ায় ঘরে ফেরার তোড়জোড়। হঠাৎ কেঁপে উঠল পায়ের তলার মাটি। ১৫-২০ সেকেন্ডের কম্পন! পরপর দুবার। মুহূর্তেই মৃত্যুপুরী লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। যে ভূমিতে ছিল বিশ্বাসের নিশ্বাস, সে মাটিই হয়ে গেল জীবন্ত কবরস্থান। তাসের ঘরের মতো ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ল আকাশছোঁয়া দম্ভের বহুতল অট্টালিকাগুলো। কংক্রিটের সেই পাহাড়ের নিচে হাজার হাজার স্বপ্ন, বুকফাটা আর্তনাদ আর স্বজনহারানোর কান্না! ৫০ হাজারের বেশি মানুষ চাপা পড়ে আছেন সে ধ্বংসস্তূপের নিচে। যাদের বুকের ওপর চেপে বসেছে পৃথিবীর নিষ্ঠুর খেয়ালের যমদূত। যেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শত শত প্রাণ। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সে তথ্যই দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের (ইউএন ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার। গতকাল শনিবার একই তথ্য দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার উদ্ধারকর্মীরাও। উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী দল। আলজাজিরা, বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, এএফপি।
ভেনেজুয়েলার সাজানো-গোছানো শহরগুলো এখন শুধুই কঙ্কালসার। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ। বাতাসে পচা লাশের বিদঘুটে গন্ধ। এক-দুই হাত পরপরই ধ্বংসস্তূপের টিলা। ছুটে ছুটে সেখানেই নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে ফিরছেন শোকার্ত স্বজনরা। প্রাণের খোঁজে দৌড়াচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরাও। বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথমটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ২০ দশমিক ৩ কিলোমিটার ও দ্বিতীয়টি ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে। এতে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বহু ভবন ধসে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের কাছে উপকূলীয় শহর লা গুইরা। সেখানে একের পর এক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গতকালের সরকারি তথ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২০ জনে। আহত ৩৩৬০ জন।
রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান ও চারদিকের হাহাকার
কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকে থাকা মানুষের একটু নড়াচড়া বা গোঙানির আওয়াজ পেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। একটুখানি প্রাণের স্পন্দন শুনতে যেন কান পেতে রয়েছে পুরো ভেনেজুয়েলা। বুধবারই দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিমানবন্দর ও গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিপর্যস্ত লা গুইরা অঞ্চলকে সম্পূর্ণ সামরিকায়নের ঘোষণা দেয় সরকার। তবে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই নিজেদের হাত, কোদাল ও সাধারণ যন্ত্রপাতি নিয়ে ধ্বংসস্তূপ খনন শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।






