অভিবাসী স্রোত ঠেকাতে ব্রিটেনকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব ফ্রান্সের
- লন্ডন-প্যারিসের ‘একজন ফেরত, একজন গ্রহণ’ চুক্তির বদলে ইইউজুড়ে নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব দিল ফ্রান্স

অবৈধভাবে ছোট নৌকায় আসা মানুষের সংখ্যা কমাতে ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে ফ্রান্স চায় নতুন অভিবাসন চুক্তি।
ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছানো অভিবাসীদের নিয়ে নতুন সমাধানের খোঁজে ফ্রান্স। এবার শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে যুক্ত করে ব্রিটেনের সঙ্গে একটি নতুন অভিবাসন চুক্তি চায় প্যারিস। লক্ষ্য, অবৈধভাবে ছোট নৌকায় আসা মানুষের সংখ্যা কমানো এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা।
বৃহস্পতিবার দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স চাইছে বর্তমান ব্রিটেন-ফ্রান্সের ‘একজন ফেরত, একজন গ্রহণ’ ব্যবস্থার বদলে ইউরোপীয় স্তরের একটি নতুন পরিকল্পনা চালু করতে। এই প্রস্তাবে ব্রিটেন ইউরোপের বৈধ আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশ গ্রহণ করবে, বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে আসা কিছু অভিবাসীকে ফেরত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
‘একজন ফেরত, একজন গ্রহণ’ চুক্তি হলো, ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অবৈধভাবে ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের একজনকে ফেরত নেওয়ার বিনিময়ে ব্রিটেন বৈধভাবে থাকা বা আশ্রয়ের আবেদনকারী একজন ব্যক্তিকে গ্রহণ করবে, এমন একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে শেষ হওয়ার কথা। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত হাজার হাজার ছোট নৌকা পাড়ি দেওয়া মানুষের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অল্প সংখ্যককেই ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
ইউরোপ ছাড়ার পরও অভিবাসন সমস্যা ব্রিটেনের রাজনীতিতে অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে রয়েছে। প্রতি বছর ফ্রান্সের উপকূল থেকে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বহু মানুষ। ব্রিটিশ সরকার এই প্রবাহ বন্ধ করতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ফ্রান্সের নতুন প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে ইউরোপীয় সহযোগিতা বাড়ানোর চিন্তা। প্যারিসের যুক্তি, অভিবাসন শুধু ব্রিটেন বা ফ্রান্সের একক সমস্যা নয়; এটি পুরো ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। তাই সমাধানও হতে হবে বহুপাক্ষিক।
তবে এই পরিকল্পনা রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করতে পারে। ব্রিটেনে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দাবিতে কঠোর অবস্থানে থাকা দলগুলো আরও কড়া ব্যবস্থা চায়। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে, অভিবাসন নীতিতে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক দিকও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এর আগে ব্রিটেন ও ফ্রান্স অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্ত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। কিন্তু ছোট নৌকার যাত্রা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের এই প্রস্তাব দেখাচ্ছে, ব্রেক্সিটের পরও অভিবাসন প্রশ্নে ব্রিটেন ও ইউরোপের সম্পর্ক পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়নি। কারণ ইংলিশ চ্যানেলের ওপারের এই সংকট একা কোনও দেশের পক্ষে সামলানো কঠিন।
এখন প্রশ্ন, লন্ডন কি ইউরোপীয় স্তরের এই নতুন ব্যবস্থায় রাজি হবে? নাকি ব্রিটেন নিজের আলাদা অভিবাসন নীতিতেই এগোবে? ইউরোপের অভিবাসন রাজনীতিতে সেই উত্তরই হতে পারে আগামী দিনের বড় পরীক্ষা।



