ইইউর নিশানায় এবার রাশিয়ার ব্যাংক খাত

ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২১তম দফা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছে। এতে রাশিয়ার ব্যাংক খাত, ক্রিপ্টো নেটওয়ার্ক, ড্রোন উৎপাদন, তেল ব্যবসায়ী ও তেল শোধনাগারগুলোকে ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস।
নতুন এই প্যাকেজে ১৭০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০টি ব্যাংক রয়েছে, যা এক দফায় সবচেয়ে বেশি। এতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যাংকের মোট সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে, যা রাশিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত ২১৩টি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকেরও বেশি।
এই ব্যাংকগুলোর ওপর সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও লেনদেন নিষেধাজ্ঞাসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণমাত্রার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের কাছে আলোচনার জন্য এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত সমর্থন প্রয়োজন।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো ইতোমধ্যে রাশিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ২০২২ সালে দেশটির বড় ব্যাংকগুলোকে বৈশ্বিক নিরাপদ আর্থিক বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থা ‘সুইফট’ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।
তবে বর্তমানে রুশ কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে ছোট ছোট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।
কাজা কালাস এক্সে দেওয়া পোস্টে বললেন, ‘আমরা রাশিয়ার আর্থিক খাতে বড় ধাক্কা দিতে চাই। এজন্য প্রায় ৯০টি ব্যাংকের সম্পদ জব্দ এবং রাশিয়া ও অন্য কয়েকটি দেশের ৩০টির বেশি ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত লেনদেন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এর লক্ষ্য হলো রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং মস্কোকে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করা।
রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত বছর কমে মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চ সুদের হার, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং রুবলের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ম্যাক্রোইকোনমিক অ্যানালাইসিস অ্যান্ড শর্ট-টার্ম ফোরকাস্টিং’ বারবার সম্ভাব্য ব্যাংকিং সংকটের সতর্কতা দিয়েছে, যদিও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা অস্বীকার করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি ১০ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে সম্পদের মান অবনতির বিষয়টি আড়াল করা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ঋণ প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যের কারণে ব্যাংকিং সংকট নীরবে বিস্তৃত হচ্ছে।’
তবে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপ-গভর্নর ফিলিপ গাবুনিয়া গত সপ্তাহে বলেছেন, তারা কোনো ব্যাংকিং সংকটের লক্ষণ দেখছেন না এবং ঋণ পুনর্গঠনের পরিস্থিতিও স্থিতিশীল হয়েছে।




