ইইউতে ফিরতে চলেছে ব্রিটেন
- ব্রেক্সিটের অনিশ্চয়তায় আর এক দশক নয়, স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের
- বর্তমান সম্পর্ক বহাল রাখা থেকে শুল্ক ইউনিয়ন, একক বাজার, এমনকি পূর্ণ সদস্যপদও বিবেচনায়
- নভেম্বরে যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ বৈঠকের আগে বিকল্প তুলে ধরবেন বার্নহ্যাম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
ব্রেক্সিটের দরজা একবার বন্ধ হয়েছিল গণভোটে। দশ বছর পর সেই দরজার চাবি আবার আলোচনার টেবিলে তুললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তার বার্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আর অস্পষ্টতার মধ্যে থাকা যাবে না। বর্তমান ব্যবস্থাই রাখা হবে, শুল্ক ইউনিয়নে ফেরা হবে, একক বাজারে যোগ দেওয়া হবে, নাকি আরও এক ধাপ এগিয়ে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ চাওয়া হবে, সব বিকল্পই এখন বিবেচনার আওতায়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ান, টেলিগ্রাফ ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বার্নহ্যাম স্পষ্ট করেছেন, সরকার ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব পথের সুবিধা, অসুবিধা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা পরীক্ষা করবে।
বার্নহ্যাম বলেছেন, “আমরা যেমন আছি তেমনই থাকতে পারি। সেটিও অবশ্যই একটি বিকল্প।” তিনি সাবেক চ্যান্সেলর জর্জ অসবর্নের প্রস্তাবিত শুল্ক ইউনিয়ন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সম্মেলনে আলোচিত একক বাজারে ফেরার বিষয় এবং শেষে “পুরো পথটাই যাওয়া”, অর্থাৎ পূর্ণ ইইউ সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এই অবস্থান ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির ঘোষিত নীতির তুলনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সে সময় দলটি ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়া, একক বাজারে ফেরা কিংবা নতুন শুল্ক ইউনিয়নে প্রবেশের সম্ভাবনা নাকচ করেছিল। বর্তমান পার্লামেন্ট চলাকালে সেই সীমারেখা মানার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
তবে বার্নহ্যাম এখনই কোনও একটি পথ বেছে নেননি। তাঁর ভাষায়, “কোনটি করা সম্ভব এবং প্রতিটি বিকল্পের সুবিধা ও অসুবিধা কী, তা আমাদের দেখতে হবে।” তিনি আগেও বলেছেন, জীবদ্দশায় যুক্তরাজ্যকে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে দেখতে চান, যদিও বুধবারের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সেটি যে অবিলম্বে হতে হবে, এমন কথা তিনি বলছেন না।
এর এক দিন আগে মঙ্গলবার লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম ব্রেক্সিট নিয়ে আরও খোলামেলা অবস্থান নেন। তিনি বলেছেন, “ব্রেক্সিট আমাদের নিয়ন্ত্রণ দেয়নি” এবং তাঁর মূল্যায়নে ব্রেক্সিটে “ভালোর চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে”। ইউরোপ এখনও যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বাজার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের দিক ঠিক না করলে দেশকে ভবিষ্যতের পরিষ্কার পথ দেওয়া সম্ভব নয়।
বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, নভেম্বরে সম্ভাব্য যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ বৈঠকের সময় তিনি দেশের সামনে বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরবেন এবং কোনও একটি পথে বৃহত্তর ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করবেন। ওই বৈঠকে বিদ্যুৎবাজারে ঘনিষ্ঠ সংযোগ, খাদ্যপণ্য বাণিজ্য এবং তরুণদের চলাচল নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্য ২০২৭ সালে আবার ইরাসমাস প্লাস শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচিতেও অংশ নেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী অনিশ্চয়তার আরও একটি দশক বহন করার সামর্থ্য ব্রিটেনের নেই। তাঁর কথায়, দেশ দীর্ঘদিন ধরে “অনেক বেশি অনিশ্চয়তা, অনেক বেশি বিভাজনের” মধ্যে ছিল। এখন প্রশ্নটি ঝুলিয়ে না রেখে জনগণের সামনে পরিষ্কার বিকল্প হাজির করার সময় এসেছে।
তবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পথ রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে দীর্ঘ। পূর্ণ সদস্যপদ চাইলে নতুন করে আলোচনা, ইইউ সদস্যদেশগুলোর সম্মতি এবং যুক্তরাজ্যে আরেকটি গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। একক বাজারে ফিরলেও ইইউর নিয়মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামঞ্জস্য এবং মানুষের অবাধ চলাচলের মতো শর্ত সামনে আসতে পারে।
ব্রেক্সিটের প্রশ্ন তাই আবার ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরছে। পার্থক্য শুধু এটুকু, এবার বিতর্কটি ‘বেরিয়ে যাওয়া উচিত কি না’ নিয়ে নয়। প্রশ্ন এখন, বেরিয়ে আসার এক দশক পর ইউরোপের দিকে ব্রিটেন কতটা পথ ফিরে যাবে।



