’দেশ ছেড়ে কর বাঁচিয়ে উপদেশ’: র্যাটক্লিফকে পাল্টা ব্যঙ্গ ব্রিটিশ মন্ত্রীর
- মোনাকোয় কর-নিবাসী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক ব্রিটেনকে ‘অবনতির পথে’ বলতেই তাঁর সমালোচনার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন

দেশের করব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা... সবই প্রকাশ্যে বলেছেন ব্রিটেনের অন্যতম ধনী শিল্পপতি স্যার জিম র্যাটক্লিফ। কিন্তু তিনি যখন নিজেই কম করব্যবস্থার দেশ মোনাকোয় থাকেন, তখন ব্রিটেনকে নিয়ে এমন কঠোর মন্তব্য করার নৈতিক অধিকার কতটা? সেই প্রশ্ন তুলেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিককে পাল্টা আক্রমণ করেছেন ব্রিটিশ নারী ও সমতাবিষয়ক মন্ত্রী এবং লেবার পার্টির চেয়ার ব্রিজেট ফিলিপসন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক তরজার কথা জানানো হয়েছে।
র্যাটক্লিফ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ব্রিটেন এখন “অবনতির পথে” এবং দেশের উপর তার “কোনও আস্থা নেই”। তার দাবি, উচ্চ কর, অভিবাসনের মাত্রা এবং ক্রমবর্ধমান কল্যাণ ব্যয় ব্রিটিশ অর্থনীতিকে দুর্বল করছে। ধনীদের প্রতি ব্রিটেনে এক ধরনের ঈর্ষার সংস্কৃতিও তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশে ফেরার ইচ্ছা নেই।
এর জবাবে ফিলিপসন বলেছেন, র্যাটক্লিফের মন্তব্য তিনি “এক চিমটি নুন দিয়ে” গ্রহণ করবেন। তাঁর বক্তব্য, আইন মেনেই কেউ মোনাকোয় কর-নিবাসী হতে পারেন; কিন্তু নিজে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ব্রিটেনের করনীতি নিয়ে এমন মন্তব্য করলে “নৈতিক উচ্চভূমি” হারাতে হয়। ফিলিপসনের দাবি, ব্রিটেন এখনও শক্তিশালী দেশ এবং সরকার বিনিয়োগ ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছে।
র্যাটক্লিফকে ঘিরে ‘কর-নির্বাসন’ বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালের আগস্টে তার করমুক্ত মোনাকোয় চলে যাওয়ার পরিকল্পনার খবর প্রথম বড় আকারে সামনে আসে। পরে তিনি ২০২০ সাল থেকে মোনাকোর কর-নিবাসী হন। অর্থাৎ বর্তমান বিতর্কের বহু আগেই ব্রিটেনের উচ্চ করব্যবস্থা এড়িয়ে তাঁর বিদেশে বসবাস রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।
র্যাটক্লিফ বর্তমানে রাসায়নিক শিল্পগোষ্ঠী ইনিওসের প্রতিষ্ঠাতা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উল্লেখযোগ্য অংশের মালিক। তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুসলিম সমর্থকদের একটি সংগঠনও তাঁকে ক্লাব ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটেনে ধনীদের দেশত্যাগ, করের বোঝা ও বিনিয়োগ নিয়ে বিতর্ক যখন বাড়ছে, তখন র্যাটক্লিফ-ফিলিপসনের এই সংঘাত আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে, দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্কবার্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি সেই সতর্কবার্তা কে এবং কোথা থেকে দিচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ?



