ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঝড়
গোপন কথোপকথন ফাঁস, বিদেশি অনুদান বিতর্কে রিফর্ম ইউকে
- গোপন ক্যামেরায় নির্বাচনী আইন এড়ানোর আলোচনা
- পুলিশকে তদন্তে নামার আর্জি লেবার পার্টির

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ
“আমি আসলে শুনছিলামই না।” বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে তুমুল বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা বৈঠকটি সম্পর্কে শনিবার এমনই দাবি করলেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। অথচ সেই বৈঠক ঘিরে ওঠা প্রশ্নেই ইতিমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দলের বার্ষিক সম্মেলনে যেখানে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতির বার্তা দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন আলোচনার কেন্দ্রে বিদেশি অর্থ, নির্বাচনী আইন আর ফারাজের নেতৃত্ব।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ৪-এর গোপন অনুসন্ধানে বিদেশি অর্থ দিয়ে রিফর্ম ইউকের রাজনৈতিক জরিপের খরচ মেটানোর অভিযোগ ওঠার পর দলের নীতিবিষয়ক প্রধান জেমস অর এবং ফারাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যান জুকস সরে দাঁড়িয়েছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে দলটি।
চ্যানেল ৪-এর জন্য অনুসন্ধানকারী ‘ভারবেটিম’-এর সাংবাদিকেরা নিজেদের ব্রিটিশ সংযোগ থাকা ধনী মার্কিন দাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে তাঁরা রিফর্মের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গোপনে ধারণ করা ফুটেজের ভিত্তিতে চ্যানেল ৪-এর দাবি, একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে রিফর্মের জন্য তিনটি জনমত জরিপের ৩০ হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ মেটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ আইনে বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক দলকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই।
আরও গুরুতর অভিযোগ, সম্ভাব্য ৫ লাখ পাউন্ডের বিদেশি অনুদান যুক্তরাজ্যে থাকা এক ব্যক্তির মাধ্যমে দলের কাছে পৌঁছানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। চ্যানেল ৪-এর ফুটেজে এমন কথোপকথন দেখা গেছে বলে শুক্রবার আল জাজিরার বিশ্লেষণেও জানানো হয়। তবে কোনও অবৈধ অর্থ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে রিফর্ম ইউকে।
ফারাজও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুক্রবার এলবিসি রেডিওকে তিনি বলেছেন, “দল কোনও আইন ভাঙেনি। কোনও সন্দেহজনক অর্থও নেয়নি।” তাঁর দাবি, জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে দলের কর্মকর্তাদের ‘ফাঁদে’ ফেলেছেন। জুকসের মন্তব্যকে তিনি ‘পাবের আলগা কথাবার্তা’ বলেও উড়িয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু বিতর্ক থামেনি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বিবিসির লরা কুয়েন্সবার্গের প্রশ্নের মুখে ফারাজ বলেছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অনুদান বেআইনি–এ কথা অবশ্যই তাঁর জানা। তবে বিতর্কিত বৈঠকে কী বলা হচ্ছিল, তা তিনি মন দিয়ে শুনছিলেন না। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, অনুদানসংক্রান্ত আইন তিনি “যে কারও চেয়ে ভালো” জানেন।
ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ইতিমধ্যে মেট্রোপলিটন পুলিশকে সম্ভাব্য অপরাধ তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত এবং প্রাপ্ত তথ্য মূল্যায়ন করবে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়নি। ব্রিটেনের ইলেক্টোরাল কমিশনও তথ্য পর্যালোচনা করছে এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
বিতর্কটি এমন সময় এল, যখন রিফর্ম নিজেকে ব্রিটেনের আগামী সরকার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। দলটির এখন মাত্র আটজন এমপি থাকলেও দীর্ঘ সময় জনমত জরিপে শীর্ষে ছিল। সাম্প্রতিক ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইট ইউগভ জরিপে রিফর্ম ও ক্ষমতাসীন লেবার–দুই দলই ২৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।
তাই প্রশ্ন শুধু দুই কর্মকর্তার পদ নিয়ে নয়। বার্মিংহামের সম্মেলনে ফারাজ বলতে চেয়েছিলেন, রিফর্ম ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সম্মেলন শেষে তাঁর দলকেই এখন প্রমাণ করতে হচ্ছে, ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার আগে তারা কি নিজেদের অর্থের হিসাবটাই স্বচ্ছ রাখতে পারছে?





