শিক্ষার্থীদের ফি কমাতে ব্রিটেনকে শর্ত ইউরোপের
- ব্রেক্সিটের পর সম্পর্ক জোড়ার পথে নতুন বাধা
- ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য কম বেতন নিশ্চিত না করলে আটকে যেতে পারে হাজার কোটি পাউন্ডের বাণিজ্যিক সুবিধা

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার খরচ নিয়ে বিরোধ। অথচ তার জেরে আটকে যেতে পারে ব্রিটেনের কোটি কোটি পাউন্ডের বাণিজ্যিক স্বার্থ। ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বেতন কমানোর প্রশ্নে এবার কঠিন শর্তের মুখে লন্ডন। দাবি না মানলে খাদ্য ও পানীয়পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা তাই নতুন পরীক্ষার মুখে। যে বিচ্ছেদে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল ব্রিটেন, সেই বিচ্ছেদের মূল্যই কি এবার দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায়?
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের বৈঠকে অন্তত ছয়টি সদস্যরাষ্ট্র ব্রিটেনের কাছে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চেয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বরের শীর্ষ সম্মেলনের আগেই ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সমান হারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রেক্সিটের আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনে স্থানীয়দের সমান বেতন দিতেন। বিচ্ছেদের পর অধিকাংশের জন্য চালু হয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চ বেতন। স্নাতক পর্যায়ে সেই খরচ স্থানীয়দের তুলনায় চার থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যস্থতাকারীরা বিরোধ নিষ্পত্তি আরও ছয় মাস পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্র তাতে রাজি নয়। এক কূটনীতিক গার্ডিয়ানকে বলেছেন, বেতন নিয়ে সমঝোতা ছাড়া তরুণদের বিনিময় কর্মসূচির গুরুত্ব খুবই সীমিত। আরেক কূটনীতিক জানিয়েছেন, অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র আরও বিশ্বাসযোগ্য ব্রিটিশ অঙ্গীকার চাইছে।
আগামী ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লক্ষ্য তিনটি চুক্তি। খাদ্যবাণিজ্য সহজ করা, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্যব্যবস্থা সমন্বয় এবং তরুণদের পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ বাড়ানো।
খাদ্যবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে সীমান্তের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে। ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৫১০ কোটি পাউন্ড সুবিধা আসতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বেতন নিয়ে সমঝোতা না হলে চুক্তিটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ। কার্বন বাণিজ্য নিয়েও জটিলতা বাড়তে পারে।
এদিকে ব্রিটেন বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের বেতন কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিনিময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিল্পসহায়তা কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার চায় লন্ডন। তবে সেই সমঝোতাও অনিশ্চিত।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, অর্থনীতি শক্তিশালী করা ও তরুণদের সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের শিক্ষার্থীরা এই ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবেন না।
এক দশক আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ব্রিটেন। আজ সেই জোটের বাজারে ফের সুবিধা পেতে শিক্ষার খরচ নিয়ে দরকষাকষি করছে দেশটি। প্রশ্ন এখন, শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা ছাড় দেবে লন্ডন? আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনের হিসাবই কি শেষ পর্যন্ত আটকে দেবে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা?



