কানাডা পারলে ব্রিটেন কেন নয়, ইইউর নতুন সম্ভাবনা নিয়ে লন্ডনে জল্পনা
- ব্রেক্সিটের পর নতুন সমীকরণ, ইইউ-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মডেল হিসেবে কানাডাকে দেখছে ব্রিটিশ রাজনীতি

কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদ তাই শুধু অটোয়া-ব্রাসেলস সম্পর্কের ঘটনা নয়; এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মডেল নিয়েও বড় পরীক্ষা।
ব্রেক্সিটের ছয় বছর পর ইউরোপের দরজা কি আবার একটু খুলতে চলেছে ব্রিটেনের জন্য? কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব সামনে আসতেই লন্ডনে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা, ব্রিটেনও কি সেই পথ অনুসরণ করতে পারে? অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে এখন প্রশ্ন, ইউরোপের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর নতুন কোনও পথ খোঁজা হবে কি না।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই নতুন ধরনের সম্পর্কের মাধ্যমে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যদিও ‘সহযোগী সদস্য’ নামে কোনও নির্দিষ্ট মর্যাদা বর্তমানে ইইউ চুক্তিতে নেই। ফলে কানাডার সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি হলে তার কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে। এটি পূর্ণ সদস্যপদ নয়; বরং ইইউর সঙ্গে গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি নতুন মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবের পর ব্রিটেনের সাবেক মন্ত্রী নিক বোলসসহ ইউরোপপন্থী রাজনীতিকরা দাবি তুলেছেন, লন্ডনেরও কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পথ খোঁজা উচিত। তাঁদের যুক্তি, ব্রেক্সিটের পর বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ইইউর সঙ্গে নতুন ধরনের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর সরকার ব্রেক্সিট বাতিলের কথা বলছে না, তবে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ব্রাসেলসের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে।
কানাডার ক্ষেত্রে পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি জানিয়েছেন, তিনি ইইউর সঙ্গে একটি “অনন্য জোট” চান, তবে পূর্ণ সদস্যপদ নয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে অটোয়া নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার বাড়াতে চাইছে।
ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কানাডার সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সম্পর্ক শুধু অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সরবরাহ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
তবে ব্রিটেনের ক্ষেত্রে পথ সহজ নয়। ইইউর এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সহযোগী সদস্যপদের ধারণা মূলত ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর জন্য তৈরি হতে পারে; ব্রিটেন চাইলে তার জন্য আলাদা রাজনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন হবে।
ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেন ইইউর একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে নতুন কোনও সম্পর্ক তৈরি হলে তা কতটা গভীর হবে, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন। মাছ ধরা, বাণিজ্য নিয়ম, কৃষি ও অভিবাসনসহ বহু বিষয়ে এখনও লন্ডন ও ব্রাসেলসের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদ তাই শুধু অটোয়া-ব্রাসেলস সম্পর্কের ঘটনা নয়; এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মডেল নিয়েও বড় পরীক্ষা। ব্রিটেন সেই পথ অনুসরণ করবে কি না, তার উত্তর এখন নির্ভর করছে লন্ডনের রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং ইইউর ভবিষ্যৎ কাঠামোর ওপর।



