জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারালো চীন

ছবি: রয়টার্স
জার্মানিতে শীর্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। এ তথ্য জানিয়েছে ইউরোপের দেশটির সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার জার্মান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্ট (জিটিএআই) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে এ কথা। জিটিএআই ইউরোপের দেশটির সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা।
জার্মান সরকারের ওই সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে জার্মানিতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) শীর্ষ একক উৎস হয়ে উঠেছে চীন। এ সময়ে জার্মানিতে চীনা কোম্পানিগুলোর ২২৮টি গ্রিনফিল্ড ও সম্প্রসারণ প্রকল্প করা হয়েছে নথিভুক্ত। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ২০৬টি।
দেশটিতে শীর্ষ পাঁচ বিদেশি বিনিয়োগের উৎসের তালিকায় থাকা বাকি তিনটি দেশ হলো সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডস।
গত বছর জার্মানিতে মোট এক হাজার ৫৬৪টি এফডিআই প্রকল্প নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯.৩ শতাংশ কম।
জার্মানিতে নিবন্ধিত এফডিআইয়ের ৩৩ শতাংশই এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে, যা চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের চেয়ে বেশি।
ফেব্রুয়ারিতে বেইজিং সফরকালে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ চীনা কোম্পানিগুলোকে জার্মানিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জার্মানিতে চীনা বিনিয়োগ চাই। আমরা জার্মানিতে কর্মসংস্থান চাই চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে।’
অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া এবং চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্কের মতো ইউরোপীয় বাধাগুলো এড়াতে চীনা কোম্পানিগুলো দলে দলে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে।
এদিকে, অবনতিশীল আন্তঃআটলান্টিক সম্পর্ক এবং জার্মানিতে জ্বালানির উচ্চ ব্যয়ের মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো আমেরিকান সংস্থাগুলোকে এই বাজারে প্রবেশের আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করছে।
নভেম্বরে জার্মানিতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ২৭ শতাংশ মার্কিন সংস্থা জার্মানিকে একটি আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক স্থান হিসেবে দেখে। তারা জ্বালানি ও শ্রমের উচ্চ ব্যয়, অর্থনৈতিক ও শিল্পনীতিতে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মানের মতো প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, জার্মানিতে কর্মরত প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন সংস্থা বলেছে যে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন তাদের কৌশলগত অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


