ঐতিহাসিক জাদুঘর ও রাশিয়ান তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

ঐতিহাসিক প্যানোরামা ভবনের ছাদে আগুন ধরে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দখল করা ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোলের একটি ঐতিহাসিক জাদুঘর এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে একজন রেলকর্মী নিহত, পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় ও রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেভাস্তোপোলে ড্রোন হামলায় ঐতিহাসিক প্যানোরামা ভবনের ছাদে আগুন ধরে যায়।
রুশ-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি জাদুঘর নয় বরং একটি ঐতিহাসিক প্রতীক। তিনি দাবি করেছেন, ভবনটি অতীতেও যুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে রুশ গণমাধ্যম জানিয়েছে।
একই সময়ে ক্রিমিয়া জুড়ে ড্রোন হামলার কারণে রেল পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। একটি ট্রেন লক্ষ্য করে চালানো হামলায় লোকোমোটিভ চালকের সহকারী নিহত এবং চালক আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন ক্রিমিয়ার গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ। হামলার পর কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতের ট্রেন চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
চলমান হামলার ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেট্রলের খুচরা বিক্রি অনেক এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কঠোর রেশনিং চালু করা হয়েছে, যা মূলত জরুরি পরিষেবা ও সরকারি ভাউচারধারীদের জন্য সীমিত।
এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সামারা অঞ্চলের নোভোকুইবিশেভস্ক তেল শোধনাগারে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে রসনেফটের স্থাপনাগুলো রয়েছে। পাশাপাশি রোস্তভ, ভ্লাদিমির এবং উরাল অঞ্চলের কয়েকটি শিল্প স্থাপনায়ও অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এক রাতেই ৩০০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু মস্কোর দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী ও শিল্পাঞ্চলগুলোয় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানালেও মস্কো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রিমিয়া এবং রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র : আলজাজিরা




