‘গল্প সাজাচ্ছে’ বহু বাংলাদেশি, উদ্দেশ্য যুক্তরাজ্যে আশ্রয় লাভ

ছবি: রয়টার্স
পড়াশোনা বা ভ্রমণের ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অনেকেই আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাদের মধ্যে বহু ব্যক্তি নিজ দেশে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বা বিরোধী দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তারা যে দলের সমর্থক বলে দাবি করছেন, সেই দলের নাম পর্যন্ত ঠিকমতো বলতে পারেননি। এমনকি অনেকে একই ধরনের সাজানো গল্প ও জাল প্রমাণ ব্যবহার করে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সাবেক কর্মকর্তা। তবে সেখানে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বছরের পর বছর ধরে এমন হাজার হাজার আশ্রয় আবেদন যাচাই করেছেন বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র একজনের দাবিই তার কাছে সত্য বলে মনে হয়েছে।
তবে এটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দাবি। সরকারি পরিসংখ্যান বা স্বাধীন কোনো তদন্তে এই হার নিশ্চিত করা হয়নি।
দ্য টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ওই কর্মকর্তা যুক্তরাজ্যের বর্তমান আশ্রয় লাভের ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে অপব্যবহৃত ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, অনেক আবেদনকারী একই ধরনের গল্প বা ‘স্ক্রিপ্ট’ অনুসরণ করে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আসেন।
অন্য দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে তিনি বলেন, শত শত ইরাকি কুর্দি নিজেদের একই কুর্দি প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা বলে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছিলেন। আবার অনেক পাকিস্তানি আবেদনকারী দাবি করেছেন, সমকামী হওয়ায় দেশে ফিরলে তারা নিপীড়নের শিকার হবেন। তাদের অনেকের আবেদনে একই ব্যক্তিকে কথিত প্রেমিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওই ব্যক্তি তাদের পক্ষে সমর্থনসূচক চিঠিও দিতেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রথমে সংক্ষিপ্তভাবে যাচাই করা হয়। এরপর কয়েক মাস পর নেওয়া হয় বিস্তারিত সাক্ষাৎকার। এই সময়ের মধ্যে আবেদনকারীরা পরামর্শ নেওয়া, নিজেদের গল্প প্রস্তুত করা এবং কথিত প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ পান।
সাবেক ওই কর্মকর্তার দাবি, কোনো আবেদন মঞ্জুর করতে কয়েক মিনিট সময় লাগলেও তা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে প্রতিটি দাবির বিস্তারিত জবাব দিতে কর্মকর্তাদের কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট আশ্রয়প্রার্থীর ৩৯ শতাংশ কাজ, পড়াশোনা বা ভ্রমণের ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয় চেয়েছেন।
এর আগে বিবিসির এক গোপন অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, কিছু অভিবাসন পরামর্শক সাত হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ নিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের সাজানো গল্প তৈরি, সমর্থনপত্র সংগ্রহ, সমকামীদের নৈশকেন্দ্রের ছবি এবং চিকিৎসা প্রতিবেদন তৈরির কৌশল শেখাচ্ছিলেন।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদনের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অজ্ঞাত সূত্রের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করে না। তবে প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করা হয়। এমনকি আগে আশ্রয় দেওয়া হয়ে থাকলেও তা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
সরকারের দাবি, আশ্রয় মঞ্জুরের হার ২০২২ সালের ৭৭ শতাংশ থেকে চলতি বছরে ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে পাকিস্তানিদের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক, যা মোট আবেদনকারীর ১০ শতাংশ।






