বিদেশি শক্তির হয়ে কাজের অভিযোগ, ব্রিটিশ নৌসেনার বিরুদ্ধে মামলা

রাষ্ট্রের সামরিক গোপনীয়তার ভেতর থেকেই কি তথ্য পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছিল কোনো বিদেশি শক্তির কাছে? এমন গুরুতর অভিযোগেই ব্রিটিশ নৌবাহিনীর এক কর্মরত সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির পুলিশ। অভিযুক্তের বয়স মাত্র ২৪ বছর। তবে কোন বিদেশি শক্তির স্বার্থে তিনি কাজ করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ান ও আল-জাজিরায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, টেডি ইয়াং নামের ওই নৌসেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। লন্ডনের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের তদন্তের পর মামলাটি হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২১ মে পর্যন্ত ইয়াং সুরক্ষিত তথ্য সংগ্রহ, নকল, নথিবদ্ধ বা নিজের কাছে সংরক্ষণ করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ওই কার্যকলাপের মাধ্যমে একটি বিদেশি শক্তিকে সুবিধা দেওয়া। একই সময়ের মধ্যে সুরক্ষিত তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বেডফোর্ডশায়ারের বাড়ি থেকে ইয়াংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে লন্ডনে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। বুধবার ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার অনুমোদন দেয়। বৃহস্পতিবার তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রকাশিত মেট্রোপলিটন পুলিশের বিবৃতিতে লন্ডনের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্ল্যানাগান বলেছেন, “সশস্ত্র বাহিনীর একজন কর্মরত সদস্যের বিরুদ্ধে এগুলো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, তদন্ত চলার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। একই সঙ্গে মামলাটি আদালতে থাকায় অপ্রয়োজনীয় জল্পনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, বিচারপ্রক্রিয়ায় যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীও জানিয়েছে, তারা অভিযোগ সম্পর্কে অবগত। তবে বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
পুলিশ একটি বিষয় বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছে। ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে এই মামলা গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি ঘিরে চলমান পৃথক তদন্তের সঙ্গে যুক্ত নয়। ওই ঘটনায় সম্ভাব্য বিদেশি রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ।
এখন প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে আদালত। রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত তথ্যের কাছে যাদের পৌঁছানোর অধিকার থাকে, তাঁদের ওপরই ভর করে একটি দেশের নিরাপত্তা। সেই আস্থার ভেতরেই যদি বিদেশি স্বার্থের অভিযোগ ঢুকে পড়ে, তখন মামলাটি আর শুধু একজন নৌসেনা সদস্যকে ঘিরে থাকে না। প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের গোপন দরজাগুলো আসলে কতটা সুরক্ষিত।



