পাঁচ মহাদেশে সেনা, ঘরের প্রতিরক্ষা কোথায় ব্রিটেনের

ব্রিটেনের সামরিক পতাকা ছড়িয়ে আছে পাঁচ মহাদেশে। সাইপ্রাস থেকে কেনিয়া, ওমান থেকে আরও দূরের ঘাঁটি। কিন্তু নতুন এক গবেষণা প্রশ্ন তুলেছে, বিশ্বজুড়ে শক্তি প্রদর্শনের এই ব্যয় কি সত্যিই ব্রিটেনকে নিরাপদ করছে? নাকি নিজের ঘরের প্রতিরক্ষা শক্ত করার বদলে পুরোনো সাম্রাজ্যিক অভ্যাসেই বিপুল অর্থ ঢালছে দেশটি?
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রানজিশন সিকিউরিটি প্রজেক্টের গবেষকেরা ব্রিটেনকে বিদেশি সামরিক অভিযান কমিয়ে নিজস্ব ভূখণ্ড ও ইউরোপীয় প্রতিরক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের সামরিক বাহিনীই সবচেয়ে বেশি বিদেশমুখী৷
২০২৪-২৫ সালের হিসাব বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি বলেছে, ব্রিটিশ সামরিক বাজেটের প্রায় ২৩ শতাংশ বিদেশের অঙ্গীকার ও কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে। অর্থের হিসাবে তা ১ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ডের বেশি। এর মধ্যে ইউরোপের বাইরেই গেছে প্রায় ২৮০ কোটি পাউন্ড। সাইপ্রাস, কেনিয়া ও ওমানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত কেন্দ্র রয়েছে।
গবেষকদের ভাষায়, এই প্রবণতা একটি “ধ্বংসাত্মক ও সেকেলে পররাষ্ট্রনীতির” লক্ষণ। ২০০১ সালের পর ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়াসহ বিভিন্ন সামরিক হস্তক্ষেপে বর্তমান মূল্যে ৫ হাজার ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি ব্যয় করেছে ব্রিটেন। গবেষণাটি প্রশ্ন তুলেছে, এত ব্যয় দেশটিকে শেষ পর্যন্ত কতটা নিরাপদ করেছে।
সহলেখক কেভিন ক্যাশম্যানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক তৎপরতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ব্রিটেনের আরও অর্থ ঢালা উচিত নয়। আর গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহপরিচালক খেম রোগালি বলেছেন, বিদেশে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের বদলে অর্থ প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করা উচিত।
বিতর্কটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনার কারণে। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মূল প্রতিরক্ষায় ব্যয়ের অঙ্গীকার করেছে। ট্রানজিশন সিকিউরিটি প্রজেক্টের হিসাবে, এতে বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট ২০২৬ সালের প্রায় ৭ হাজার কোটি পাউন্ড থেকে ২০৩৫ সালে ১৫ হাজার ১০০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। সরকারি পরিকল্পনায় আগামী চার বছরেই প্রতিরক্ষায় প্রায় ২৯ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের কথা রয়েছে।
তবে ব্রিটিশ সরকারের যুক্তি ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, বাড়তি অর্থ যুদ্ধের প্রস্তুতি, গোলাবারুদের মজুত, আধুনিক প্রযুক্তি ও ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজন। সরকারও বলেছে, শুধু বেশি ব্যয় নয়, অর্থ আরও কার্যকরভাবে খরচ করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু কত টাকা সেনাবাহিনী পাবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, সেই অর্থ কোন যুদ্ধের জন্য? দূরের ভূখণ্ডে শক্তি দেখানোর জন্য, নাকি নিজের দেশের মানুষ ও ভূখণ্ডকে রক্ষার জন্য? নতুন গবেষণা ব্রিটেনকে সেই পুরোনো হিসাবটাই নতুন করে খুলতে বলেছে।



