ফকল্যান্ড ব্রিটেনেরই থাকবে, আর্জেন্টিনাকে কড়া বার্তা লন্ডনের
- ট্রাম্পের মন্তব্যের পর নতুন করে উত্তপ্ত দক্ষিণ আটলান্টিকের কূটনীতি
- আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টের ‘মালভিনাস’ দাবি প্রত্যাখ্যান লন্ডনের, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সামনে রাখল ব্রিটেন
- ‘ফকল্যান্ডবাসীর ইচ্ছাই চূড়ান্ত’, বললেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলির নতুন মন্তব্যের পর এবার সরাসরি জবাব দিল ব্রিটেন।
দক্ষিণ আটলান্টিকের ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে ফের শুরু হয়েছে বড় শক্তির কূটনৈতিক টানাপড়েন। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলির নতুন মন্তব্যের পর এবার সরাসরি জবাব দিল ব্রিটেন। লন্ডনের বার্তা স্পষ্ট, ফকল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও সমঝোতা নয়, দ্বীপবাসীর ইচ্ছাই শেষ কথা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাইলি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফের দাবি করেন, ফকল্যান্ড, যাকে আর্জেন্টিনা ‘মালভিনাস’ নামে ডাকে, তাদের ঐতিহাসিক ভূখণ্ড। তিনি বলেন, বিশ্বে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং আর্জেন্টিনার দাবি নতুন সমর্থন পাচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্যের পেছনে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন।
এর পরই শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেনের অবস্থান “অপরিবর্তিত”। তিনি বলেন, দ্বীপগুলো ব্রিটিশ এবং ব্রিটিশই থাকবে, কারণ সেখানকার মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ইচ্ছা সেটিই। তিনি আরও বলেন, ফকল্যান্ডবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত এবং ব্রিটেন তা রক্ষা করবে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও মাইলির বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের এই অবস্থান ফকল্যান্ডের বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে বেশি আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেছেন, ফকল্যান্ডবাসী নিজেদের ব্রিটিশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং দ্বীপগুলোর প্রতি ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতি “সম্পূর্ণ ও অটল”।
ফকল্যান্ড নিয়ে নতুন উত্তেজনার শুরু হয় ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, তিনি ফকল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। পরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রিটেন ভবিষ্যতে কোনও সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাবে কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি নিশ্চয়তা দেননি। তাঁর মন্তব্যকে আর্জেন্টিনা নিজেদের পক্ষে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরে।
মাইলি শুধু রাজনৈতিক দাবি তোলেননি, ফকল্যান্ড ঘিরে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির হুমকিও দিয়েছেন। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় তেল অনুসন্ধানকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ সংস্থা রকহপার ও তাদের অংশীদারদের পরিচালিত তেল প্রকল্প।
ফকল্যান্ড নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার বিরোধ নতুন নয়। ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে প্রায় ৯০০ মানুষ নিহত হন। যুদ্ধের শেষে ব্রিটেন দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। লন্ডনের যুক্তি, ২০১৩ সালের গণভোটে ৯৯.৮ শতাংশ ফকল্যান্ডবাসী ব্রিটিশ বৈদেশিক অঞ্চল হিসেবেই থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
তবে আর্জেন্টিনা ওই গণভোটকে স্বীকৃতি দেয় না। বুয়েনস আইরেসের দাবি, দ্বীপগুলো তাদের কাছ থেকে দখল করা হয়েছিল এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জ তাই আবারও বড় কূটনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে। একদিকে আর্জেন্টিনার পুরনো দাবি, অন্যদিকে ব্রিটেনের অটল অবস্থান আর মাঝখানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অনিশ্চিত ভূমিকা। ফকল্যান্ডের শান্ত সমুদ্রের নিচে আবারও জমছে উত্তেজনার ঢেউ।





