গাজার বিভীষিকার মুখে শুধু উদ্বেগ নয়, ‘আরও দৃঢ় পদক্ষেপ’ চায় ব্রিটেন

অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ছে মানুষের জীবন, আর সেই ভয়াবহতার মুখে দাঁড়িয়ে শুধু নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশে সন্তুষ্ট থাকতে নারাজ ব্রিটেন। গাজার পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, সংকট মোকাবিলায় ব্রিটেনকে আরও দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিলিব্যান্ডের এই অবস্থানের কথা জানায়। প্রতিবেদনটিতে গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবির বিষয়টি উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব নেওয়া ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ডের বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের মধ্যে দিন কাটছে উপত্যকাটির মানুষের।
তবে শুধু মানবিক বিপর্যয়ের কথা বলেই থেমে থাকেননি মিলিব্যান্ড। তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল স্পষ্ট, ফিলিস্তিন প্রশ্নে বছরের পর বছর ধরে অনুসৃত নীতির বাইরে গিয়ে ব্রিটেনকে এবার কার্যকর পদক্ষেপের কথা ভাবতে হবে।
গত ১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্বে মিলিব্যান্ড ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন বিষয়ে ব্রিটিশ নীতিতে একটি ‘সর্বাত্মক পরিবর্তন’ আনার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা যখন বাস্তব পরিস্থিতির কারণে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন শুধু সেই নীতির প্রতি সমর্থন জানালেই হবে না, কাজেও তা প্রমাণ করতে হবে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিতর্কিত ই-১ অবৈধ এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন মিলিব্যান্ড। তাঁর মতে, এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও বিপন্ন করতে পারে।
সংসদে তিনি বলেছেন, ব্রিটিশ সরকার এই পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকবে না। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল-সংক্রান্ত ব্রিটিশ নীতিতে একটি ‘সর্বাত্মক’ পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে মিলিব্যান্ডের বক্তব্যের সূত্র ধরে বলা হয়, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তার উদ্বেগ শুধু কূটনৈতিক ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সেখানে যে মাত্রার মানবিক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটেনের আরও ‘সিদ্ধান্তমূলক’ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেই তিনি মনে করেন।
এই অবস্থান ব্রিটেনের ইসরায়েল নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
গাজার আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ হয়তো এখনও থামেনি, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের আর্তনাদও শেষ হয়নি। কিন্তু লন্ডনের ক্ষমতার অলিন্দে এবার সেই আর্তনাদের প্রতিধ্বনি আরও জোরালো হচ্ছে। মিলিব্যান্ডের কথায় অন্তত একটি ইঙ্গিত স্পষ্ট, শুধু ‘উদ্বেগ’ প্রকাশের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, এখন ব্রিটেনের সামনে প্রশ্ন, কথার পরে সত্যিই কি পদক্ষেপ আসবে?





