জ্বালানি সংকটে দুশ্চিন্তায় রাশিয়ান কৃষকরা

রাশিয়ার মস্কোতে রোজনেফট পেট্রোল স্টেশনে একটি ট্যাঙ্কার ট্রাক পার্ক করা আছে। ছবি : রয়টার্স
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির কৃষকরা এখন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কিয়েভ সম্প্রতি মস্কোর জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনে যুদ্ধের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যার ফলে তেলসমৃদ্ধ রাশিয়ায় তেলের সরবরাহ কিছুটা কমে গেছেচ। এতে অধিকাংশ শস্যসমৃদ্ধ অঞ্চলে তেল কেনাবেচায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তেলের জন্য গাড়িচালকরা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন এবং স্টেশনে মাঝেমধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘দি আল্টিমেট লাক্সারি ২০২৬’ শিরোনামের একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে লন-মোয়ারে তেল ঢালতে ঢালতে রসিকতা করে বলতে শোনা যায়, ‘কী দামি সম্পদ! এখন এটা কেনার সামর্থ্য কার কার আছে?।’
রাশিয়ার ইয়ানডেক্স সার্চ ইঞ্জিনের তথ্যমতে, ইন্টারনেটে কীভাবে তেল চুরি করা যায় লিখে খোঁজার প্রবণতা গত এক মাসে বহুগুণ বেড়ে গেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় এক ব্যক্তি মন্তব্যে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো মুদি পণ্যের দাম কত হবে। সব সরবরাহ তো সড়ক পথেই হয়।’
রোস্তভ-অন-ডন শহরের তাতিয়ানা সেডিক রয়টার্সকে বলেছেন, পেট্রোলের জন্য লাইন পাগল করে দেওয়ার মতো... আমি ভাবতে শুরু করেছি এখন থেকে হয়তো হেঁটেই কাজে যেতে হবে।
জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। জাবাইকালস্কি অঞ্চলে বাস চলাচল এবং বর্জ্য অপসারণ সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী এই সংকট যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কমিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত রবিবার এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং বাজার স্থিতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, কৃষি খাতে তেলের সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপরই ফসল তোলা নির্ভর করছে।
রাশিয়ার জ্বালানি বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে।
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রাশিয়া ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে এবং কাজাখস্তান আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে ৫০ হাজার টন তেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স




