কড়া নজরদারি না মানতে ব্রিটিশ আইনের বিরুদ্ধে ফের আদালতে মেটা

অনলাইনের অদৃশ্য জগতে কে ঠিক করবে নিরাপত্তার সীমারেখা: রাষ্ট্র, না প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান? ব্রিটেনে সেই পুরনো প্রশ্নই এ বার নতুন করে আদালতের দরজায়। শিশু ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় তৈরি অনলাইন নিরাপত্তা আইনের কঠোরতম বিধির আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামকে আনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু করেছে মেটা। আর এর ফলে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংঘাত আরও গভীর হল।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ব্রিটেনের যোগাযোগ ও সম্প্রচার খাতের স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামকে অনলাইন নিরাপত্তা আইনের ‘প্রথম শ্রেণির পরিষেবা’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে মেটা৷ রোবলক্স ও কোরা-ও একই শ্রেণিবিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
অফকম গত ৩০ জুন প্রথম শ্রেণির পরিষেবাগুলোর তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট এবং এক্স-সহ কয়েকটি বৃহৎ পরিষেবার নাম রয়েছে। এই শ্রেণিতে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ অনলাইন পরিষেবার তুলনায় বাড়তি স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর অধিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ঠেকানোর মতো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তবে মেটার জন্য আদালতের পথ এই প্রথম নয়। চলতি বছরের ৭ মে রয়টার্স জানিয়েছিল, অনলাইন নিরাপত্তা আইনের অধীনে অফকম কীভাবে নিয়ন্ত্রক ফি এবং সম্ভাব্য জরিমানার অঙ্ক হিসাব করছে, তা চ্যালেঞ্জ করে ব্রিটেনের উচ্চ আদালতে যায় মেটা। তখন বিরোধের কেন্দ্রে ছিল ব্রিটেনে সংশ্লিষ্ট পরিষেবার আয় নয়, প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী যোগ্য আয়কে হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত।
মেটার বক্তব্য ছিল, এই পদ্ধতি “অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও বেআইনি”। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, ফি ও জরিমানা যে দেশে যে পরিষেবা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। আইন অনুযায়ী গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যোগ্য বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে অফকম। আগের সেই মামলার শুনানি অক্টোবরেই হওয়ার কথা।
অফকম অবশ্য পিছু হটার ইঙ্গিত দেয়নি। সংস্থার কর্মকর্তারা গত ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটিকে জানিয়েছেন, অনলাইন নিরাপত্তা আইন কার্যকর করতে গিয়ে তাঁরা এখন “অত্যন্ত মামলাপ্রবণ পরিবেশে” কাজ করছেন। শ্রেণিবিন্যাসের বিরুদ্ধে চারটি পরিষেবা ইতিমধ্যেই উচ্চতর ট্রাইব্যুনালে গেছে।
২০২৩ সালে পাস হওয়া আইনটির লক্ষ্য অনলাইনে অবৈধ ও ক্ষতিকর বিষয়বস্তু থেকে বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা বাড়ানো। কিন্তু আইনটির পূর্ণ বাস্তবায়নের আগেই একের পর এক আদালত-লড়াই দেখিয়ে দিচ্ছে, ব্রিটেনে অনলাইনের নিরাপত্তা নিয়ে লড়াই এখন শুধু পর্দার ভিতরে নয়, আদালতের কাঠগড়াতেও।



